ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে ইরান পিছু হটবে না বলে আবারো স্পষ্ট করে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন- পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই কার্যকর সমাধান চায়, তাহলে একটি চুক্তি খুব কাছেই আছে। তবে চুক্তি হোক বা না হোক, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখবে। তেহরান একটি এমন সমাধানে পৌঁছাতে প্রস্তুত, যা স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নিশ্চয়তা দিতে পারে। তবে আরাগচি স্পষ্ট করে দেন, সমৃদ্ধকরণ ইরানের অধিকার, এটি আলোচনার বিষয় নয়।

বর্তমানে ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে নির্ধারিত মাত্রা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশের অনেক বেশি। তবে তা এখনো পারমানবিক অস্ত্র নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের অনেক কম। ইরান বারবার বলছে, পারমাণবিক কর্মসূচি একেবারেই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। দেশটির পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামিও জানিয়েছেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না। তাদের কার্যক্রম জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

এছাড়া ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন চায় তেহরান। ভিন্ন এক বক্তব্যে আরাঘচি বলেন, ইরান ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের একটি ‘নতুন অধ্যায়’ শুরু করতে প্রস্তুত। তেহরানে কূটনৈতিক ফোরামের সেই বক্তব্যে আরাঘচি আরো জানান, যদি ইউরোপ সৎভাবে এগোয়, তাহলে ইরান আস্থা গড়ে তুলতে এবং সম্পর্ক উন্নত করতে প্রস্তুত।

তবে ইরান সতর্ক করে দিয়েছে, ইউরোপ যদি ২০১৫ সালের চুক্তির আওতায় ‘স্ন্যাপব্যাক’ নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর করে, তাহলে তার ‘অপরিবর্তনীয় পরিণতি’ হতে পারে। উল্লেখ্য, এই ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া অনুযায়ী, চুক্তি ভঙ্গের জবাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা সম্ভব। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম দফা ক্ষমতায় চুক্তি থেকে একতরফাভাবে সরে এসে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এরপর থেকে ইরান ধীরে ধীরে চুক্তির শর্ত থেকে সরে আসে।