মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত শুল্কনীতিতে তামিলনাড়ুর রফতানি খাত বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছেন ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিন। এতে তামিলনাড়ুর সংশ্লিষ্ট খাতগুলো দৈনিক ৬০ কোটি রুপি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে অগ্রাধিকারভিত্তিক সমাধান করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খবর দ্য হিন্দু।

এমকে স্টালিন মার্কিন শুল্ক বিষয়ে নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখেন গতকাল। সেখানে তিনি জানান, মার্কিন শুল্কের কারণে তামিলনাড়ুর বস্ত্র, চামড়া ও অন্যান্য রফতানি খাত তীব্র মুনাফা সংকোচন ও কর্মসংস্থান হ্রাসের মুখে পড়েছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রুশ জ্বালানি তেল কেনায় ভারতীয় প্রধান রফতানি পণ্যগুলোর ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিরুপুর, কোয়েম্বাটোর, ইরোড ও করুর জেলায় রফতানিকারকদের সম্মিলিত দৈনিক ক্ষতি প্রায় ৬০ কোটি রুপি। ফলে বহু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ভারতের বস্ত্র ও পোশাক রফতানি শিল্পের মেরুদণ্ড আমাদের রাজ্য। দেশের মোট বস্ত্র রফতানির ২৮ শতাংশ আসে তামিলনাড়ু থেকে এবং এ খাতে কর্মসংস্থান রয়েছে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষের। একইভাবে ভারতের চামড়া ও জুতা রফতানির ৪০ শতাংশই আমাদের রাজ্যের অবদান, যেখানে কর্মরত আছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। বর্তমান এ বাণিজ্য অচলাবস্থা শুধু অর্থনৈতিক ধাক্কা নয়, শুল্কের কারণে সৃষ্ট অপূরণীয় ক্ষতি এখন আসন্ন মানবিক সংকটে রূপ নিচ্ছে।’

স্টালিন উল্লেখ করেন, ভারতের নিটওয়্যার রাজধানী হিসেবে পরিচিত তিরুপুরে রফতানিকারকরা প্রায় ১৫ হাজার কোটি রুপির নিশ্চিত ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার কথা জানিয়েছেন। অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। একই রকম হতাশাজনক পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে ভেলোর, রাণিপেট ও তিরুপত্তুর জেলার জুতা শিল্প অঞ্চলগুলোয়ও।

পাশাপাশি নতুন ক্রয়াদেশ উদ্বেগজনক হারে কমে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। স্টালিন বলেন, ‘শুল্কচাপে মুনাফার মার্জিন সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ক্রেতা ধরে রাখতে বড় অংকের ছাড় দিতে বাধ্য হতে হচ্ছে রফতানিকারকদের।’

তিনি আরো জানান, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর দিকে ক্রয়াদেশ সরিয়ে নিচ্ছে। একবার ক্রয়াদেশ সরে গেলে সে ব্যবসা পুনরুদ্ধারের লড়াই খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী স্টালিন সতর্ক করে বলেন, ‘এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অত্যন্ত গভীর। লাখ লাখ কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে। এরই মধ্যে ছাঁটাই ও মজুরি পরিশোধে বিলম্ব শুরু হয়েছে, যা পুরো রফতানিমুখী খাতের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে যুবক ও নারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’