যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করেছে ইরান। দুই দেশ কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে একটি যৌথ সাময়িক নৌপথ চালুর বিষয়ে আলোচনা করেছে। খবর রয়টার্স।
গতকাল তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়্যদ বদর আল-বুসাইদির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। একইসঙ্গে প্রণালিটি মাইনমুক্ত করার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজি প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ জলপথ দিয়ে অধিকাংশ নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাত অনেকটা কমে এলেও শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে আছে। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।
মঙ্গলবার ওমানের আশ শিসাহ এলাকার কাছাকাছি একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে অচল হয়ে পড়ে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ঘটনাটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে প্রায় ৯ নটিক্যাল মাইল বা ১৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ঘটেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে থাকা সব মাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে তিনি ইরানকে নতুন করে মাইন স্থাপন না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
অন্যদিকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
এর প্রভাবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। বাজার বিশ্লেষকরা নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাবকে তুলনামূলকভাবে গুরুত্ব কম দিয়েছেন। ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের উদ্যোগকে ‘চরম আইনহীনতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং জানিয়েছে, অনেক দেশই এ চাপ প্রয়োগে যুক্ত হবে না বলে তারা আশাবাদী।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সময় সরিয়ে নেয়া কিছু মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে কর্মীদের ফেরত পাঠানো শুরু করেছে ওয়াশিংটন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে নিকট ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরো বাড়ার ঝুঁকি কম বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে শুরুতে কয়েকটি দূতাবাস সীমিত সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
চলমান সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইরান ও লেবাননের। ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ যুদ্ধে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা এখনো স্পষ্ট নয়।










