মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘লিবারেশন ডে’ শুল্কের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। এরই মধ্যে শুল্ক বাবদ পরিশোধ করা অর্থ ফেরত চাইছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের শুল্ক আরোপ রোধে আদালতে আবেদন করেছে বিভিন্ন খাতের এসব জায়ান্ট। এ আইনি লড়াইয়ে বড় বড় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর অংশগ্রহণ ব্যবসায়িক মহলে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। খবর ইউরো নিউজ।

ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের নথি অনুযায়ী, ৭০টির বেশি কোম্পানি ট্রাম্প আরোপিত শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করেছে। কস্টকো, রেভলন, কাওয়াসাকি মোটরস ও বাম্বল বি ফুডসের মতো কোম্পানিগুলো রয়েছে তালিকায়।

নতুন এ আইনি বিতর্কের মূল বিষয় হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্টের (আইইইপিএ) অধীনে এ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা রাখেন কিনা। ১৯৭৭ সালে প্রণীত এ আইনের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিদেশী রাষ্ট্র, সংস্থা বা ব্যক্তির ওপর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে ট্রাম্পের সমালোচকরা বলছেন, এটি মূলত জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিত বা লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। গোটা দেশে মোটামুটি সব ধরনের আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের জন্য প্রবর্তিত হয়নি আইইইপিএ।

এশিয়া ও ইউরোপে ব্যবসা পরিচালনাকারী কস্টকো গত মাসে মামলা দায়ের করে শুল্ক বাবদ পরিশোধ করা অর্থের পুরোটাই ফেরত চেয়েছে। ভবিষ্যতেও এর প্রয়োগ রোধ চায় এ রিটেইল জায়ান্ট। কোম্পানিটি বলছে, আইইইপিএ আইন স্পষ্টভাবে প্রেসিডেন্টকে কাস্টমস ডিউটি আরোপ করার অনুমতি দেয়নি। তাই শুল্ক অবৈধ।

উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ায় উৎপাদন ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান রেভলনও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। কোম্পানিটি সতর্ক করে বলছে, এরই মধ্যে যেসব চালানের শুল্ক পরিশোধ করেছে, তা ডিসেম্বরের মধ্যেই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়ে গেলে পরে মামলা জিতলেও অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

অটোমোবাইল ও শিল্প খাতের কোম্পানিগুলোও মামলায় যুক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জাপানের টয়োটা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান, কাওয়াসাকি মোটরস ও অন্যান্য অটোমোবাইল সরবরাহকারীরা গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশ, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্কের ফলে উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে। এছাড়া অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক আলকোয়া, প্যাকেজিং গ্রুপ বার্লিন প্যাকেজিং, ফিটনেস যন্ত্র নির্মাতা আইফিট ও প্লাম্বিং যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী ফেরগুসন এন্টারপ্রাইজও মামলা করেছে।

বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইন থাকা খাদ্য কোম্পানিগুলোও শুল্কের কারণে খরচ বৃদ্ধি নিয়ে সমস্যায় পড়েছে। ব্রাজিল, একুয়েডর, পানামা, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, চীন ও ভারত থেকে সামুদ্রিক খাদ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাম্বল বি ফুডস জানিয়েছে, শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট আইইইপিএ ব্যবহার করে বড় পরিসরের শুল্ক আরোপ করতে পারবেন কিনা, সম্প্রতি এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে। এর আগে নিম্ন আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। কিছু বিচারক আইনের বৈধতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, তবে শুল্ক ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া জটিল হওয়ার আশঙ্কাও উত্থাপন করেছেন।

কস্টকোর মামলা আরো বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসার কারণ হচ্ছে কোম্পানিটি সাবেক মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী জিনা রাইমন্ডোকে বোর্ডে মনোনীত করেছে। কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডার ভোট হবে আগামী মাসে। সুপ্রিম কোর্ট ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ‘লিবারেশন ডে’ শুল্কের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত বছর নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুল্ক প্রয়োগকে ভোটারদের সামনে বারবার নিয়ে আসছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউজে প্রবেশের পর পরই বৃহৎ তিন বাণিজ্য অংশীদারের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেন তিনি। পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তির ওপর নির্ভর করে ট্রাম্প ঘোষিত শুল্ক বিভিন্ন মাত্রায় বেড়েছে ও কমেছে। এখন বেশির ভাগ দেশের ওপর সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য রয়েছে।