টানা এক সপ্তাহের ভারি বর্ষণের ফলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয়। সবচেয়ে বিপর্যস্ত রাজ্য আসামে পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্লাবিত হয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি গ্রাম, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাত লাখ মানুষ। উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে দুর্যোগকবলিত হয়ে মৃতের সংখ্যাও। সর্বশেষ সরকারি তথ্য ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, পুরো অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসের কবলে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৪৬ জন, যার মধ্যে শুধু আসামে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের।
আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ) জানিয়েছে, রাজ্যের ২১টি জেলার মধ্যে ১৬টি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ৫৭টি রাজস্ব চক্রের আওতাধীন ১ হাজার ৪০৬টি গ্রাম পানির নিচে চলে গেছে। রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় বারাক উপত্যকার শ্রীভূমি, হাইলাকান্দি ও নাগাঁও—এ তিনটি জেলাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
বন্যায় রাজ্যের ১৫ হাজার হেক্টরের বেশি ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি ও রাস্তা। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও ফেরি চলাচলও ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৪০৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ৪১ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ২১০টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র থেকে চাল, ডাল, ত্রিপল, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
যদিও কিছু দুর্গম এলাকায় এখনো ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যক্রম চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
বন্যার প্রভাব পড়েছে বন্যপ্রাণীর জীবনেও। মরিগাঁও জেলার পবিতোরা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও কপিলি নদীর পানি প্রবেশ করায় গণ্ডারসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী আশ্রয়ের জন্য উঁচু স্থানে সরে যাচ্ছে। বন বিভাগ প্রাণীগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য সরবরাহ, শিকারবিরোধী টহল এবং হাতি স্থানান্তরের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুদিন আসামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোয় আরো ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের অন্তত ১৮টি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এ দুর্যোগ থেকে আশু মুক্তির সম্ভাবনা নেই। কেননা বছরের দুর্যোগের ভয়াবহতা শুরু থেকেই ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।










