মিয়ানমার জান্তা সরকার বিদ্রোহী অধ্যুষিত বিভিন্ন প্রদেশে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে স্কুল, হাসপাতাল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা। গত দুই সপ্তাহে ৫৮টি বিমান হামলায় কমপক্ষে ৮৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ১৩, ১৪ ও ১৫ মে রাখাইন রাজ্যে চালানো বিমান হামলায় কমপক্ষে ২২ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। খবর দ্য ইরাওয়াদি ও মিজিমা নিউজ।
গত ২ মে থেকে গতকাল পর্যন্ত এ বিমান হামলা চালানো হয় রাখাইন, চিন, কারেন, শান, কারেন্নি ও মন প্রদেশ এবং সাগাইং ও ম্যান্ডালে অঞ্চলে। এতে আহত হয় কমপক্ষে ২০০ জন। বিদ্রোহী প্রতিরোধ বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বেসামরিক স্থাপনায় এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে ভূমিকম্প-পরবর্তী যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও।
এক হামলায় নিহতদের মধ্যে ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী ২২ জন শিশু ও দুজন স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০২ জন। ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
গত ১২ মে ইন্দাউ টাউনশিপের মাওলু শহরে প্রতিরোধ বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তাদাউ বিমানঘাঁটি থেকে উড়ে আসা দুটি যুদ্ধবিমান একটি স্কুল ও কয়েকটি বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে তিনটি বোমা ও রকেট ব্যবহার করা হয়। এ হামলায় স্কুল ভবন ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে দুজন নিহত ও সাতজন আহত হয়।
১৩ মে রাখাইন রাজ্যের আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত রাথেদাউং টাউনশিপের তুন ইয়াওয়াই গ্রামে জান্তার বিমান হামলায় ১৩ জন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়। এর মধ্যে শিশুও ছিল। ১৪ মে কিয়াউকটাও শহরে আরেক বিমান হামলায় দুজন নিহত হন। ১৫ মে আরেক হামলায় সাতজন নিহত ও চারজন আহত হয়।
তবে আরাকান আর্মির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ১৪ ও ১৫ মে কিয়াউকটাও টাউনশিপে একাধিক বিমান হামলায় অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং এক ডজনেরও বেশি আহত হয়েছে।










