যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় আপাতত আইনি স্থগিতাদেশ জারি করেছেন এক ফেডারেল বিচারক। শুক্রবারের এ আদেশে সাময়িক স্বস্তি পেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
এর আগে হার্ভার্ডের স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রামের (এসইভিপি) অ্যাকসেস বাতিল করে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। প্রোগ্রামটির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশী শিক্ষার্থীদের তথ্য ও ভিসা তদারকি করা হয়। সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুক্রবার আদালতে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর সূত্র ধরে পরে ডিস্ট্রিক্ট জজ অ্যালিসন বুরোস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সিদ্ধান্তে অস্থায়ী স্থগিতাদেশ জারি করেন। আগামী বৃহস্পতিবার বোস্টনের আদালতে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
হার্ভার্ড তাদের মামলায় বলেছে, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থীর অস্তিত্বকে অস্বীকার করার প্রয়াস। এছাড়া সরকারি সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও অযৌক্তিক উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গারবার বলেছেন, ‘এটি আমাদের একাডেমিক স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।’
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, হার্ভার্ড ইসরায়েলবিরোধী ও সন্ত্রাসপন্থী উসকানিকে প্রশ্রয় দিয়েছে এবং কনজারভেটিভদের মতাদর্শ দমনে পক্ষপাত দেখিয়েছে। তবে তাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রায় হওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। হোয়াইট হাউজের উপপ্রেস সচিব অ্যাবিগেল জ্যাকসন ওই বিচারকের বিরুদ্ধে ‘লিবারেল এজেন্ডা’ চালানোর অভিযোগ এনে বলেন, ‘অনির্বাচিত বিচারকদের এভাবে অভিবাসন ও জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই।’ হার্ভার্ডে এখন প্রায় ৬ হাজার ৮০০ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছে, যা মোট ছাত্রসংখ্যার ২৭ শতাংশের বেশি।
এদের অনেকে কানাডা, চীন, ভারত, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এসেছে। এমনকি বেলজিয়ামের ভবিষ্যৎ রানী প্রিন্সেস এলিজাবেথও এ তালিকায় রয়েছেন।
শুক্রবার ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে সমাবর্তনের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য দিনটি ছিল উদ্বেগে ভরা। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের করম্যাক স্যাভেজ বলেন, ‘আমার স্নাতক শেষ হতে মাত্র ছয়দিন বাকি। আমি ব্রাসেলসে একটি চাকরি নিয়েছি, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা খুব বেশি।’
লিও অ্যাকারম্যান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন দেখতাম। এখন মনে হচ্ছে, কেউ যেন সে স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে।’
বিদেশী শিক্ষার্থীরা সাধারণত পুরো টিউশন ফি দিয়ে থাকে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় বাড়ায়। হার্ভার্ডের পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে শুধু টিউশন ফিই দাঁড়াবে প্রায় ৫৯ হাজার ডলার, যা বাসস্থান ও অন্যান্য খরচসহ ১ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এর আগে গত এপ্রিলে হার্ভার্ডের জন্য বরাদ্দ ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল স্থগিত করেছে হোয়াইট হাউজ। এমনকি তাদের এর করমুক্ত সুবিধাও তুলে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। বিবিসির খবর বলছে, এ ধরনের সংকট কেবল হার্ভার্ডকেন্দ্রিক নয়। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি অন্যান্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়কেও চাপ দিচ্ছে। এরই মধ্যে এসব জটিলতার কারণে হার্ভার্ড মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে এবং ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের সাহায্য নিচ্ছে।
তবে শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, এসইভিপি ডাটাবেসে হার্ভার্ডকে আটকে দিলে তাদের ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে এবং পড়াশোনা অসম্পন্ন রেখেই দেশে ফিরতে হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ব্রিটিশ শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে সমস্যা অবশ্যই আছে। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত আমাদের রাজনীতির দাবার ঘুঁটি বানিয়ে দিয়েছে।’










