ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর আরাসের একটি স্কুলে ছুরিকাঘাতে এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুজন। ঘটনার পর হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। গত শুক্রবার আরাসের গাম্বেতা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসি।

এদিকে ঘটনার পর ফ্রান্সে সাত হাজার সেনা মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে সেনা মোতায়েনের কাজ শেষ হবে। গতকাল এলিসি প্রাসাদ এ কথা জানিয়েছে। 

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতে মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ফ্রান্সে এ হামলার ঘটনা ঘটল। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী একজন রাশিয়ান নাগরিক। ২০ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম মোহাম্মদ মোগউচকভ।

হামলার পরপরই দেশটির প্রধানমন্ত্রী এলিজাবেথ বর্নি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল মাখোঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো স্কুলটি পরিদর্শন করে হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

ফরাসি জনগণকে আক্রমণের মুখে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ম্যাক্রো বলেন, ‘‌ফ্রান্সের অন্য একটি অংশে পুলিশ আরেকটি হামলার চেষ্টা ঠেকিয়েছে। নিহত শিক্ষক অন্যদের রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছিলেন। সন্দেহ নেই তিনি অনেক জীবন বাঁচিয়েছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমেনিন বলেন, এই হামলার সঙ্গে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের সংযোগ থাকা নিয়ে কোনোই সন্দেহ নেই।  হামলাকারী চেনেন বংশোদ্ভূত। উগ্রপন্থার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে নিরাপত্তা সার্ভিসগুলোর কাছে সে ছিল পরিচিত। একই সঙ্গে সে ছিল ওই স্কুলের সাবেক একজন ছাত্র। মাঝে মাধ্যেই সে ওই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরকে উগ্র ভাষায় সতর্কতা পাঠাতো। তার পরিবারের বেশ কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলো তার এক ভাই (১৭), মা, এক বোন ও এক চাচা। 

হামলা প্রত্যক্ষ করেছেন মার্টিন ডোউসেউ নামে অন্য এক শিক্ষক। তিনি বলেছেন, টিফিনের সময় এটা ছিল বেদনাদায়ক পরিস্থিতি। হামলাকারী কান্টিন স্টাফদের ওপর হামলা চালায়। যখন আমি হস্তক্ষেপ করতে চাই, সে আমার দিকে তেড়ে আসে। আমি তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করি। তাকে বলি, আমি তার ইতিহাস ও ভূগোল বিষয়ক শিক্ষক।