চীনের তিব্বতের প্রত্যন্ত এলাকায় শক্তিশালী এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ১৮৮ জন। এছাড়া ৩ হাজার ৬০৯টি বাড়ি ধসে পড়েছে। চীনের ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক সেন্টার (সিইএনসি) বলেছে, স্থানীয় সময় গতকাল সকাল ৯টা ৫ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী দেশ নেপালের সীমান্তবর্তী তিব্বতের ডিংরি কাউন্টি।
সিইএনসি বলেছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১।
ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ৪০৭ জনকে উদ্ধার ও ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
এদিকে পাশের দেশ নেপাল ও ভারতের বিভিন্ন অংশে ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নেপালের সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় ১৩ জন সামান্য আহত হয়েছে। সেখানে দুটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে এবং ১২টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেঁপে ওঠে রাজধানী কাঠমান্ডুও।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি বলেছে, ডিংরি কাউন্টি ও এর আশপাশ এলাকায় শক্তিশালী এ ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছের বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে।
সকালে ভূমিকম্পের পর অঞ্চলটিতে একাধিকবার পরাঘাত (আফটার শক) অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে পরাঘাতের সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪।
সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় প্রশাসন থেকে ডিংরি কাউন্টির শহরতলিগুলোয় লোক পাঠানো হয়েছে। ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী ও ৩৪০ চিকিৎসাকর্মী ভূমিকম্প উপদ্রুত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
তিব্বত অঞ্চলের সবচেয়ে উঁচু এ কাউন্টিতে প্রায় ৬২ হাজার মানুষ বাস করে। এটি মাউন্ট এভারেস্টের চীন অংশে অবস্থিত। এ অঞ্চলে নিয়মিত ভূমিকম্প হয়।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিগাটস শহরের একটি সুপারমার্কেটে সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, ঝাঁকুনিতে পণ্যগুলো শেলফ থেকে পড়ে যাচ্ছে। এ সময় ভীতসন্ত্রস্ত গ্রাহকরা দৌড়ে বাইরে চলে যায়।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দুর কাছের অঞ্চলটি কম জনবহুল। ২০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে ২৭টি গ্রামে প্রায় ৬ হাজার ৯০০ মানুষ বসবাস করে। তবে এখানে রয়েছে অনেক ছোট ছোট গ্রাম। এ গ্রামগুলো বিচ্ছিন্ন। হিমালয়ের বিভিন্ন উপত্যকা থাকায় এগুলো বেশ দুর্গম।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদ্ধারকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘সবাইকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়ে উদ্ধারকাজ করতে হবে, যাতে নিহতের সংখ্যা কমানো যায়।’ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দ্রুত পুনর্বাসন করা, নিরাপদ ও উষ্ণ স্থানে নেয়ারও তাগিদ দেন তিনি।
ভারতে স্বেচ্ছায় নির্বাসিত তিব্বতি বৌদ্ধদের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা ভূমিকম্পের খবর শুনে গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের জন্য প্রার্থনা করি, যারা তাদের জীবন হারিয়েছেন। যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।’
গত পাঁচ বছরে ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু থেকে ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে তিন বা তার বেশি মাত্রার ২৯টি ভূমিকম্প হয়েছে। এর সবই সর্বশেষ ভূমিকম্পের তুলনায় কম মাত্রার ছিল।
২০০৮ সালে চীনের সিচুয়ান প্রদেশে এক বিশাল ভূমিকম্পে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়।










