যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ভোটারকে দেশটির নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার এমন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। খবর নিউইয়র্ক টাইমস।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ২০২০ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির কাছে তার পরাজয়কে মিথ্যা দাবি করে চলেছেন। ট্রাম্পের দাবি, ২০২০ সালের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি করে জিতেছিলেন বাইডেন।

ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে দেশটির নাগরিক নন, এমন ব্যাপক ভোট পড়ার দাবি করে আসছেন।

গত বছর রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ একটি বিল অনুমোদন করেছে, যাতে দেশটির নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য নিবন্ধন নিষিদ্ধ করবে। দেশটিতে এ ধরনের নিবন্ধন অবৈধ। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি অনুমোদিত হলেও ডেমোক্র্যাট–নিয়ন্ত্রিত সিনেটে সেটি পাস হয়নি। একই লক্ষ্য থেকে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন ট্রাম্প।

ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা গোষ্ঠীগুলো বলছে, সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার অ্যালিজিবিলিটি অ্যাক্টের মতো আইন রূপান্তর না হওয়া বিলগুলো ভোটারদের, বিশেষ করে পাসপোর্ট বা অন্যান্য নথি না থাকা কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।

গত মঙ্গলবার নির্বাহী আদেশে সই করার সময় হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ দেশ নির্বাচন, ভুয়া নির্বাচন আর খারাপ নির্বাচনের কারণে এতটাই অসুস্থ। আমরা কোনো না কোনোভাবে এটিকে ঠিক করে ফেলব।’

অবশ্য ট্রাম্পের এ আদেশ আইনি বাধার মুখে পড়বে। পাবলিক সিটিজেন নামের একটি ভোটাধিকার অধিকার সংস্থার কো-প্রেসিডেন্ট লিসা গিলবার্ট বলেন, ‘এটি গণতন্ত্রের ওপর স্পষ্ট আক্রমণ ও একনায়কতান্ত্রিক ক্ষমতা দখল।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রিপাবলিকানরা ভোটদানের ওপর আরো বিধিনিষেধ আরোপ করার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা ডাকযোগে ভোট দেয়া এবং আগাম ভোটদানের সুযোগকে সমর্থন করে ভোটদানকে আরো সহজ করার চেষ্টা করেছে।

পাবলিক সিটিজেনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ১৪ কোটি ৬০ লাখ লোকের পাসপোর্ট নেই। ব্রেনান সেন্টারের গবেষণায় দেখা গেছে, ৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক, যারা ভোট দেয়ার যোগ্য, অর্থাৎ ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি নেই।