প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা একরাম ইমামোগলুকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ইস্তানবুল, আঙ্কারা, ইজমিরসহ প্রায় ৫০টি শহরে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, ২০১৩ সালের গেজি পার্ক বিক্ষোভের পর এটিই তুরস্কে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন। বিক্ষোভের সঙ্গে বাড়ছে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরপাকড়। ১৯ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেড় হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে রোববার রাতভর বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করার সময় নয়জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে।

এদিকে কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় ইমামোগলুকেই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী ঘোষণা করেছে তার দল উদারপন্থী পিপলস রিপাবলিক পার্টি বা সিএইচপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ দলীয় সদস্য ও ১ কোটি ৩০ লাখ সাধারণ মানুষ তাকে ভোট দিয়েছেন।

বুধবার ইমামোগলুকে আটকের পর তুরস্কজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রোববার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারাগারে পাঠানো হলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়। রোববার রাতেও ইস্তানবুল ও আঙ্কারায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। ইস্তানবুল ও আশপাশ এলাকায় পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ফ্লেয়ার ও বোতলের জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে। বিরোধীরা দাবি করছে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ইমামোগলুর জনপ্রিয়তা দেখে তাকে রাজনৈতিকভাবে দমনের চেষ্টা চলছে। তবে সরকার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

সিএইচপির চেয়ারম্যান ওজগুর ওজেল এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ইমামোগলুর পক্ষে এ বিপুল ভোট প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বৈধতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এখন আগাম নির্বাচন অনিবার্য।

ওজেল এক্সে আরো অভিযোগ করেন, বিরোধী পক্ষের কণ্ঠ রোধ করতে সরকার এক্স প্লাটফর্মের শতাধিক অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। ইলোন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্স জানিয়েছে, তুরস্কের তথ্যপ্রযুক্তি কর্তৃপক্ষ (বিটিকে) ৭০০টির বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধের আদেশ দিয়েছে, যার মধ্যে সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইমামোগলুকে আটকের পর তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এমন একটি সময়ে তুরস্কে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে যখন কিনা একটি ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কেন্দ্রে রয়েছে তুরস্ক। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এতে নিজের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিশানা বানানোর মতো মুক্ত পরিবেশ পেয়েছেন এরদোগান। মেয়রের গ্রেফতারের ঘটনায় গুটিকয়েক ইউরোপীয় নেতা সমালোচনা করলেও বেশির ভাগই নিশ্চুপ রয়েছেন। শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না।