জাপানে ভূমিকম্প পরবর্তী সুনামি সতর্কতার প্রভাব পড়েছে বিস্তৃত অঞ্চলে। এ আশঙ্কায় উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার কিছু অংশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। খবর এপি।

আজ সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ইশিকাওয়া অঞ্চলের উপকূলবর্তী নটোর বাসিন্দাদের দ্রুত উচুঁ এলাকায় যেতে বলা হয়েছে। সুনামির কারণে সেখানে ৫ মিটার বা ১৬ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা জারি হয়েছে।

জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে অনুসারে, সুনামির ছোট তরঙ্গ এরই মধ্যে উপকূলে পৌঁছে গেছে।

এছাড়া পার্শ্ববর্তী নিগাতা ও টোয়ামা অঞ্চলে সুনামির সতর্কতা দেখানো হয়েছে। এখানকার উপকূলে ৩ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার কিছু অংশে এক মিটার বা ৩ ফুট উচ্চতার ঢেউয়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

রুশ কর্মকর্তারা সাখালিন দ্বীপের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করেছেন। তারা বলছেন, দ্বীপের পশ্চিম উপকূল উচুঁ ঢেউয়ের আঘাতে প্রভাবিত হতে পারে।

জাপানের কাছাকাছি দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় শহরের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য জলোচ্ছ্বাসের দিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে। কারণ সুনামির প্রাথমিক আঘাতের চেয়ে পরের ঢেউগুলো বড় হতে পারে।

এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেছেন, সরকার ভূমিকম্প ও সুনামির তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষ জরুরি কেন্দ্র স্থাপন করেছে।

জাপান অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। ২০১১ সালের মার্চে প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে একটি পারমাণবিক বিধ্বস্ত হলে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

জাপানে এ সময়ের আবহাওয়া থাকে খুবই ঠাণ্ডা। তার মাঝেই বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে উচ্চ এলাকায় আশ্রয় নিতে বলা হচ্ছে।

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের পরপরই বাড়ি ও সাবওয়ে স্টেশন ছেড়ে বের হয়ে আসছেন মানুষ। তবে দেশটির বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎ সংস্থা কানসাই ইলেকট্রিক জানিয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি।