উত্তর আটলান্টিকে টাইটানিকের ধ্বংসস্তূপ
দেখতে গিয়ে নিখোঁজ পাঁচ পর্যটকের সন্ধানে নেমেছে একাধিক অনুসন্ধানী দল। গত রোববার
(১৮ জুন) বেসামরিক সাবমার্সিবলটি সাগর তলে রওনা হয়েছিল। খবর বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে,
সাগরে ডুব দেয়ার পৌনে দুই ঘণ্টা পর ২১ ফুট লম্বা ডুবোজাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে
যায়। এতে ৭০ ঘণ্টা চলার মতো অক্সিজেন মজুদ রয়েছে।
ওশানগেট নামের আয়োজক সংস্থার হারিয়ে যাওয়া
ডুবোজাহাজটির নাম ‘টাইটান সাবমার্সিবল’। যাত্রীদের মধ্যে
রয়েছেন ব্রিটিশ-পাকিস্তানী ব্যবসায়ী শাহজাদা দাউদ ও তার ছেলে সুলেমান। আরো আছেন ব্রিটিশ
ব্যবসায়ী ও অভিযাত্রী হ্যামিশ হার্ডিং, ফরাসি অভিযাত্রী পল-হেনরি নার্গেওলে এবং ওশেনগেটের
প্রধান নির্বাহী স্টকটন রাশও।
সরকারি সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার
নৌবাহিনী এবং গভীর সাগরে কাজ করে, এমন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্ধার অভিযানে সহায়তা
করছে।
যুক্তরাষ্ট্র কোস্ট গার্ডের রিয়ার অ্যাডমিরাল
জন মাউগের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, পর্যটকদের জীবিত খুঁজে বের করতে হলে তাদের হাতে
২৬ ঘণ্টার মতো সময় রয়েছে।
তিনি বলেছেন, দুটি বিমান, একটি সাবমেরিন
ও সনার যন্ত্র নিয়ে সাবমেরিনটি খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু অভিযানের এলাকাটি খুবই প্রত্যন্ত।
পোলার প্রিন্স নামের একটি জাহাজে বহন করে
সাবমার্সিবল বা ছোট ডুবোজাহাজটিকে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর
সেটি যাত্রীদের নিয়ে সাগরের গভীরে যায়।
ডুবোজাহাজটি পানির নিচে যাওয়ার পৌনে দুই
ঘণ্টা পরেই পোলার প্রিন্সের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
চলতি সপ্তাহে সামাজিক মাধ্যমে অভিযাত্রী
হ্যামিশ হার্ডিং জানিয়েছিলেন, অবশেষে তিনি টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে যাচ্ছেন। গত
৪০ বছরের মধ্যে নিউফাউন্ডল্যান্ডে চরম শীতের কারণে হয়তো টাইটানিকের ভগ্নাবশেষের কাছে
এটাই এই বছরের প্রথম ও একমাত্র মনুষ্যবাহী অভিযান হতে যাচ্ছে।
ওশেনগেটের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এই
বছরে একটি অভিযান চলছে আর সামনের বছর আরো দুটি অভিযান হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ধরনের ছোট আকারের সাবমার্সিবলে সাধারণত
একজন চালক ও তিনজন যাত্রী থাকে। আরেকজন থাকে ‘কনটেন্ট এক্সপার্ট’ যিনি সাগরের
নিচের সবকিছু পর্যটকদের কাছে ব্যাখ্যা করেন।
কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডের সেন্ট জনস
থেকে ডুবোজাহাজটি যাত্রা শুরু করেছিল।
সাধারণত সাগরের তলদেশে ধ্বংসাবশেষের কাছে
গিয়ে আবার ফিরে আসতে আট ঘণ্টার মতো সময় লাগে।
ওশেনগেটের তিনটা সাবমার্সিবল থাকলেও টাইটানিকের
কাছে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে শুধুমাত্র টাইটানের।
মধ্য আটলান্টিক মহাসাগরের তিন হাজার ৮০০
মিটার বা সাড়ে ১২ হাজার ফুট গভীরে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে আটদিনের এই ভ্রমণের
জন্য আড়াই লাখ ডলার খরচ করতে হয়।










