রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ২২তম মাসে গড়িয়েছে। শিগগির যুদ্ধ বন্ধের কোনো ইঙ্গিত নেই। এরই মধ্যে সেনাবহর আরো সম্প্রসারণ করার ঘোষণা দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেনাবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার সেনা বাড়িয়েছে দেশটি। এ নিয়ে রুশ সেনাবাহিনীতে মোট সেনাসদস্যের সংখ্যা দাঁড়াল ২২ লাখের বেশি। খবর এপি।

ক্রেমলিনের তথ্যানুসারে, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর ১৩ লাখ ২০ হাজার সেনাসহ ২২ লাখ ৯ হাজার ১৩০ কর্মকর্তার একটি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন পুতিন। স্বাক্ষর হওয়ার দিন থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ২০১৮ সালের পর রাশিয়ায় এটি দ্বিতীয়বারের মতো সেনাবাহিনী সম্প্রসারণের ঘটনা। ২০২২ সালের আগস্টে পুতিনের আদেশে ১ লাখ ৩৭ হাজার সেনা বাড়িয়ে ২০ লাখে উন্নীত করা হয়।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানায়, দেশটির সেনাবাহিনীতে আনুমানিক ১ লাখ ৭০ হাজার সেনা বাড়ানো হলেও এখনই তাদের যুদ্ধে মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই।

মন্ত্রণালয় আরো জানায়, ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ ও ন্যাটোর সম্প্রসারণের উচ্চ হুমকির প্রতিক্রিয়ায় দেশটিতে সেনাসদস্য বাড়ানো হয়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু বলেন, ‘‌রাশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সেনাবাহিনীতে ১৫ লাখ সেনা প্রয়োজন।’ তবে তাদের সেনাবহর কবে নাগাদ এমন আকারে পৌঁছবে, তা উল্লেখ করেননি তিনি।

এর আগে ক্রেমলিন তার সামরিক বাহিনীর আকারকে যথেষ্ট বলে মনে করত। তবে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পর তাদের বক্তব্য পাল্টেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উভয় পক্ষ তাদের সামরিক হতাহতের বিষয়ে ব্যাপক গোপনীয়তা বজায় রেখেছে। প্রায় দুই বছরের যুদ্ধে মাত্র ছয় হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে পশ্চিমাদের দাবি, এ সংখ্যা আরো অনেক বেশি।

গত অক্টোবরে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক টুইটে জানায়, ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে রাশিয়ার দেড় লাখ থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার সেনা হতাহত হয়েছে।

রাশিয়া ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করে। আক্রমণটিকে আন্তর্জাতিকভাবে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকটের সূত্রপাত করে। যুদ্ধের ফলে কয়েক লাখ ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়েছে। আরো লক্ষাধিক মানুষ দেশের মধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।