রাফা সীমান্ত দিয়ে গাজায় মানবিক সহায়তা
পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে আলোচনার
পর এ তথ্য জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, গতকাল
বুধবার (১৮ অক্টোবর) বাইডেন তেল আবিবে অবতরণ করেন। এরপর তিনি ইসরায়েল ও মিসরীয় কর্তৃপক্ষের
সঙ্গে কথা বলেন। তখন জানা যায়, সীমান্তে আটকে থাকা মানবিক সহায়তার ২০টি ট্রাক গাজায়
ঢুকতে দিচ্ছে ইসরায়েল।
এর আগে রাফা সীমান্তে ইসরায়েলের হামলায়
আটকে যায় মিসর থেকে আসা মানবিক সহায়তা। বাইডেন জানান, শুক্রবারের আগে ট্রাকগুলো রাফা
সীমান্ত অতিক্রম করতে পারবে না। সেখানে রাস্তা মেরামতের কাজ চলছে।
প্রাথমিকভাবে ২০টি ট্রাক রাফা সীমান্ত
পার হওয়ার কথা রয়েছে। আরো ১৫০টি ট্রাক অপেক্ষমান রয়েছে। এগুলো পার হতে পারবে কিনা তা
নির্ভর করবে এ ২০টি ট্রাক কীভাবে গাজায় প্রবেশ করবে তার ওপর।
এর আগে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে গাজায় শোচনীয়
পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সেখানে ত্রাণ পাঠানোর সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তবে ইসরায়েল এতদিন গাজায় কোনো ধরণের পণ্য ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিল।
গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে
ইসরায়েলের শীর্ষ কর্তাদের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, মিসর
থেকে পাঠানো মানবিক ত্রাণসহায়তা গাজায় পৌঁছাতে বাধা দেবে না ইসরায়েল। তবে তা গাজার
দক্ষিণাঞ্চলে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের জন্য খাবার, পানি ও ওষুধ হতে হবে বলে জানিয়েছে
তারা।
এদিকে গতকাল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের
মুখপাত্র আশরাফ আল-কেদরা সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় তিন হাজার ৪৭৮
জন নিহত হয়েছেন ও আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৫ জন। হতাহতের মধ্যে ৭০ শতাংশই শিশু, মহিলা
ও বৃদ্ধ।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মতে, আল-আহলি
ব্যাপ্টিস্ট হাসপাতালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪৭১ জন নিহত হয়েছেন।
তবে গতকালের পরিসংখ্যানে হাসপাতালে
বোমা হামলা অন্তর্ভুক্ত কিনা তা স্পষ্ট নয়।
গত ৭ অক্টোবর হামাস ‘অপারেশন আল-আকসা
ফ্লাড’ শুরু করে। অতর্কিতভাবে তারা ভূমি, সমুদ্র ও আকাশপথে ইসরায়েলে রকেট হামলা ও
প্রবেশ করে। আল-আকসা মসজিদে হামলা ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার
প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা বলে উল্লেখ করে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। সংঘাতে ইসরায়েলে ১,৪০০
জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।










