ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের
কর্মকর্তারা বলছেন, অভিবাসন প্রত্যাশীদের নৌকার ওপর নজরদারির জন্য একটি উড়োজাহাজ পাঠানোর
প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি গ্রিক কর্তৃপক্ষ। এরপর জলযানটি ডুবে বিপুল প্রাণহানির ঘটনা
ঘটে। খবর বিবিসি।
গত সপ্তাহের ওই ঘটনায় অন্তত ৮২ জন নিহত
হয়েছেন। শতাধিক উদ্ধার হলেও জাতিসংঘের হিসাবে নিখোঁজ রয়েছেন আরো ৫০০ মানুষ।
নৌকাডুবির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনার
মুখে পড়েছে গ্রিস। তারা দাবি করেছিল ডুবে যাওয়ার আগে নৌকাটি নিরাপদ ছিল। কিন্তু বিবিসির
অনুসন্ধান বলছে, ডুবে যাওয়ার আগে কয়েক ঘণ্টা একই স্থানেই ছিল।
যাত্রী উপচে পড়া মাছ ধরার নৌকাটি লিবিয়া
থেকে যাত্রা করেছিল। গত ১৩ জুন ভোরে গ্রিস উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রথম শনাক্ত
হয়।
নৌকাটি প্রথম দেখতে হয় ফ্রন্টেক্সর একটি
উড়োজাহাজ। তারা জানায়, নৌকাটির জ্বালানির প্রয়োজন ছিল।
ফ্রন্টেক্স দাবি করেছে, পরিস্থিতির ওপর
নজরদারির জন্য উড়োজাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও গ্রিক কোস্টগার্ড উত্তর দেয়নি।
অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে গ্রিস বলছে, নৌকায়
সাহায্যের প্রস্তাব দিলে অভিবাসন প্রত্যাশী বলেছিল তারা ইতালির পথে থাকতে চায়।
বিবিসির বিশ্লেষণ বলছে, নৌকাটি সংকটে ছিল।
ডুবে যাওয়ার সাত ঘণ্টা আগে থেকেই ধীর গতিতে চলছিল।
তবে ফ্রন্টেক্সের উড়োজাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব
নিয়ে অভিযোগের বিপরীতে কোনো মন্তব্য করেনি কোস্টগার্ড।
গত ১৪ জুন দুপুরে উপকূলীয় শহর পাইলোসের
দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে নৌকাটি ডুবে যায়। উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিরা
জানান, ১০০ শিশুসহ প্রায় ৭৫০ জন যাত্রী ছিল।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ
বলেছেন, ওই জাহাজে অন্তত ৩৫০ জন পাকিস্তানি ছিলেন। আগে কখনো একক ঘটনায় দেশটির এতসংখ্যক
মানুষ নিহত হননি।
এছাড়া ওই নৌকায় ব্যাপক সংখ্যক মিসরীয় ও
সিরিয়ান নাগরিক ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।










