বিশ্বের হিমবাহগুলো অস্বাভাবিক গতিতে গলে যাচ্ছে। গত তিন বছরে রেকর্ড পরিমাণ বরফ হারিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেসকো)। শুক্রবার (২১ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের পর থেকে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯ হাজার গিগাটন বরফ গলে গেছে। খবর রয়টার্স।

জেনেভায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্ল্ড গ্লেসিয়ার মনিটরিং সার্ভিসের পরিচালক মাইকেল জেম্প জানান, গত ছয় বছরের মধ্যে পাঁচ বছরই বরফ-এর সর্বোচ্চ ক্ষয় রেকর্ড করা হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই গলেছে ৪৫০ গিগাটন বরফ। মূলত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে এ ক্ষয় আরও বাড়তে পারে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সুপেয় পানির সংকটের মতো সমস্যাও দেখা দিবে।

প্যারিসে প্রথমবারের মতো পালিত ‘বিশ্ব হিমবাহ দিবস’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সম্মেলনেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পানি, জলবিদ্যা ও ক্রায়োস্ফিয়ার বিভাগের পরিচালক স্টেফান উলেনব্রুক জানান, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার হিমবাহ রয়েছে, যা অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের বরফ স্তরের সঙ্গে মিলে বিশ্বের ৭০ শতাংশ মিঠা পানির যোগান দেয়।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে পর্বতাঞ্চলে প্রায় ১১০ কোটি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা পানি সংকট, ভূমিধস, বন্যা ও খরা ইত্যাদি বিপদের মুখে পড়ছে। পূর্ব আফ্রিকার রোয়েনজোরি পর্বতমালার হিমবাহ ২০৩০ সালের মধ্যেই পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গ্লেসিয়োলজিস্ট হেইডি সেভেস্ত্রে।

গবেষকরা বলছেন, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে হিমবাহ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১৮ মিলিমিটার বেড়েছে। প্রতি মিলিমিটার বৃদ্ধির কারণে প্রতি বছর প্রায় তিন লাখ মানুষ বন্যার ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। হেইডি সেভেস্ত্রের মতে, কোটি কোটি মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হিমবাহের ওপর নির্ভরশীল। তাদের সবাইকে হিমবাহ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।