পশ্চিম তীরের একটি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের হামলা, পরবর্তী ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি, হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। যাকে ‘বিরল’ হিসেবে অভিহিত করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

জাতিসংঘ বলছে, জেনিন শহরে দুই দশকের মধ্যে বৃহত্তম সামরিক অভিযানে শক্তি প্রয়োগে বাড়াবাড়ি করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, এ হামলায় শতাধিক বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন হাজার হাজার বাসিন্দা। স্কুল ও হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পানি ও বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।

আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সেবা ও মানবিক কর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধা দেয়ার জন্য ইসরায়েলের সমালোচনাও করেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) গুতেরেস বলেন, ‘আমি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাই।’

এই নিন্দা ইসরায়েলের জন্য প্রযোজ্য কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটি সব ধরনের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। স্পষ্টতই এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি বাহিনী অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ রয়েছে।’

এ সময় ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলা, সংযম প্রদর্শন ও সমানুপাতিক শক্তি প্রয়োগের আহ্বান জানান জাতিসংঘ প্রধান।

তিনি বলেন, বিমান হামলার আইনি অভিযানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। দখলকার শক্তি হিসেবে বেসামরিক জনগণকে সব ধরনের সহিংসতা থেকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব রয়েছে।

জেনিন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের একদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) পশ্চিম তীরের কেদুমিমের ইসরায়েলি বসতির কাছে এক হামাস কর্মীর গুলিতে এক ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হয়। পরে হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত ৩ জুলাই ভোরে জেনিন শরণার্থী শিবিরে ড্রোন হামলার মাধ্যমে অভিযান শুরু করে। তাদের দাবি, সশস্ত্র জেনিন ব্রিগেডের একটি যৌথ কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্য করে এই হামলা। এরপর শত শত সৈন্য শিবিরে প্রবেশ করে ও সশস্ত্র ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তীব্র বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। এ সময় আকাশ থেকে হামলা অব্যাহত থাকে। এই অভিযানে ১২ ফিলিস্তিনি ও এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হন।