ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স বাসিলিকার বারান্দায় দাঁড়িয়ে প্রথম রোববারের আশীর্বাদ ও ভাষণ দিয়েছেন নতুন পোপ লিও চতুর্দশ। তার এই ভাষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল—বিশ্ব শান্তি। ভাষণে ইউক্রেন ও গাজার যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে গাজার জনগণের জন্য মানবিক সহায়তার দাবি তোলেন তিনি। এসময় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক শত্রুতা বন্ধে শনিবারের চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। খবর বিবিসি।

পোপ সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে জনতার সামনে ভার্জিন মেরির সম্মানে রেজিনা ক্যালি প্রার্থনাও পাঠ করেছেন। পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর ভ্যাটিকান সিটিতে দুই দিনের কনক্লেভ শেষে বৃহস্পতিবার ক্যাথলিক চার্চের নতুন নেতা হিসেবে পোপ লিওকে নির্বাচিত করা হয়। শনিবার তিনি রোমের বাইরে একটি গীর্জা পরিদর্শন করেন। এরপর সান্তা মারিয়া ম্যাগিওরের ব্যাসিলিকার ভিতরে ফ্রান্সিসের সমাধির সামনে প্রার্থনা করেন। আগামী সপ্তাহে ১৮ মে সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে এক গণসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে পোপ লিওর অভিষেক হবে।

সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার কেন্দ্রীয় বারান্দা থেকে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিশাল ট্র্যাজেডি ৮০ বছর আগে শেষ হয়ে গিয়েছিল... আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের টুকরো ছায়ার মুখোমুখী। এই পরিস্থিতিতে আমি বিশ্বের শক্তিশালী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, 'আর যুদ্ধ নয়'।

ইতালীয় ভাষায় পোপ বলেন, ‘পোপ ফ্রান্সিস আমাদের যে বার্তা দিয়ে গেছেন, তা হলো তরুণদের স্বাগত জানানো ও পথ দেখানো। আসুন আমরা একে অপরের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করি।’

এ সময় তিনি মিশনারি কাজ ও আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সেইসাথে নিজের লিও নাম বেছে নেয়ার কারণ ব্যাখা করে তিনি জানান, ঊনবিংশ শতাব্দীর সামাজিক ন্যায়বিচারের উপর তার শিক্ষার জন্য পরিচিত একজন পোপের নামানুসারে লিও নামটি বেছে নিয়েছেন।

রোম সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে প্রায় দেড় লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। আগতদের জন্য জুবিলি অব ব্যান্ডস-এর অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যান্ডগুলো ঐতিহ্যবাহী গান ও পপ সংগীত পরিবেশন করেছে।