দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল গ্রেফতার হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ জানুয়ারি) তাকে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর সামরিক আইন ঘোষণার সঙ্গে সম্পর্কিত বিদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তদন্তকারীরা। খবর রয়টার্স।
ইউনকে বহনকারী গাড়ি তার বাসভবন ত্যাগ করে মামলার তদন্তকারী দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থার কার্যালয়ে পৌঁছেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কাঁটাতারের বেড়ার ভেতর ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োজিত একটি সশস্ত্র বাহিনীর পাহারায় ছিলেন তিনি।
বুধবার ভোরে ৩ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য তাকে গ্রেফতারের জন্য তার আবাসস্থলের দিকে অগ্রসর হয়। গ্রেফতার হওয়ার আগে এক বিবৃতিতে ইউন বলেছেন, যেকোনো সহিংসতা এড়াতে তিনি আত্মসমর্পণ করেছেন।
বিবৃতিতে ইউন বলেন, আজ যখন আমি দেখলাম তারা দমকল সরঞ্জাম ব্যবহার করে নিরাপত্তা এলাকা ভেঙে ঢুকে পড়েছে, তখন আমি রক্তপাত এড়াতে সিআইওর তদন্তে সাড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদিও এটি একটি অবৈধ তদন্ত।
ইউনের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, তাকে আটক করার প্রচেষ্টা অবৈধ এবং এর উদ্দেশ্য তাকে প্রকাশ্যে অপমান করা।
এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে তাঁকে ধরতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টকে না পেয়ে ফিরে যায় তারা।
গত ডিসেম্বরের শুরুতে হঠাৎ করে সামরিক আইন জারি করার পর বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়াসহ একাধিক বিষয় নিয়ে তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনকে ধরতে পদক্ষেপ নেন তদন্তকারীরা।
এক পর্যায়ে অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন দেশটির একটি আদালত। একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন আইনি পদক্ষেপ এটিই প্রথম।
গত ৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারি করেছিলেন ইউন। জনগণের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ছয় ঘণ্টার মাথায় তা প্রত্যাহারে বাধ্য হন তিনি। এর জেরে বিক্ষোভের মুখে ১৪ ডিসেম্বর পার্লামেন্টে অভিশংসিত হন ইউন।










