ফ্রান্সে পুলিশের
গুলিতে এক তরুণ নিহতের জেরে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনের বেশি মানুষকে
গ্রেফতার করা হয়েছে। গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, আজ শুক্রবার (৩০ জুন)
রাতে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। পুলিশ গোয়েন্দা প্রতিবেদনের এমন
পূর্বাভাসের কারণেই বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর পাশের অন্তত তিনটি শহরে কারফিউ জারি
ছিল।
শহরগুলোতে জনসমাবেশের
ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল হেলিকপ্টার এবং ড্রোন।
উল্লেখ্য, ২৭
জুন ট্রাফিক আইন ভাঙার অভিযোগে নাহেল এম নামে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণকে খুব কাছ থেকে
গুলি করে পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, ওই তরুণ পুলিশকে লক্ষ্য
করে গাড়ি চালিয়ে দিয়েছিল। তাকে থামানোর জন্য গুলি করা হয়েছে। অবশ্য সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, ওই তরুণের গাড়ি থেমে
ছিল। তাকে রিভালবার তাক করে রাখে দুই পুলিশ। এমন সময় ওই তরুণ পালানোর চেষ্টা করলে
তাকে গুলি করা হয়।
এ ঘটনায় তার মৃত্যু হলে
২৮ জুন ফ্রান্সজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। প্যারিসের রাস্তায় রাস্তায় মানুষ ডাস্টবিনে
আগুন ধরিয়ে দেয়, ভাঙচুর করা হয় গাড়িঘোড়া। এমনকি
পুলিশকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ার কথাও জানায় সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে। ধীরে ধীরে শহর
থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। দেশজুড়ে চলমান এ বিক্ষোভে গতকাল পর্যন্ত আহত হয়েছেন
কমপক্ষে ২৪ জন পুলিশ সদস্য।
এ ঘটনায় পুলিশকেই দোষী
বলছে সরকার। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, এ
ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। এটা ক্ষমার অযোগ্য। এক যুবকের এভাবে মৃত্যুকে কোনো যুক্তি
দিয়েই ব্যাখ্যা করা যাবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৭
সালে পুলিশকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি দেয়া
হয়েছে। পুলিশকে এই অনুমতি দেয়া ঠিক হয়েছে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু
হয়েছে দেশটিতে।










