সিরিয়া ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ তদন্ত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে দুটি নতুন জাতীয় কমিশন গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্সি থেকে রোববার দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বাশার পরিবারের শাসনামলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত, ক্ষতিপূরণ ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। খবর রয়টার্স।

দুটি কমিশনের একটি হচ্ছে ‘ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল জাস্টিস কমিশন’। এটি দেশ-বিদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় প্রমাণ সংগ্রহ করে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করবে। প্রেসিডেন্সির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাবেক সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সত্য প্রকাশ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

গত বছর মাত্র ১১ দিনের এক সামরিক অভিযানে ইসলামপন্থি বিদ্রোহী সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শামের হাতে ক্ষমতা হারান সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। তার পতনের পর দেশজুড়ে উদযাপন দেখা গেলেও নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির দাবি আরো জোরালো হয়, বিশেষ করে যারা সরকারের বন্দিশালায় ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হাসান আল-দুঘেইম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এ কমিশন শুধু অপরাধীদের বিচার নয়, ক্ষতিগ্রস্তদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিপূরণসহ জাতীয় পুনর্মিলনের ওপর গুরুত্ব দেবে।’

তিনি জানান, অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা হবে। তবে সাবেক বাশার সরকারের সঙ্গে যুক্ত অনেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে ব্যবহারযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা কঠিন হবে। সাবেক সিরীয় মেজর জেনারেল ইব্রাহিম হুওয়াইজা, যিনি ১৯৭৭ সালে লেবাননের নেতা কামাল জুম্বালাত হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে মার্চে গ্রেফতার হন, তাকেও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

এছাড়া আরেকটি কমিশন হচ্ছে ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর মিসিং পারসনস’। এ কমিশনের মাধ্যমে গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ বা গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান অনুসন্ধান, তথ্য সংরক্ষণ, জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আইনি ও মানবিক সহায়তা দেয়া হবে।

জাতিসংঘের ‘ইনডিপেনডেন্ট ইনস্টিটিউশন অন মিসিং পারসনস ইন সিরিয়া’ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে সিরিয়ায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।