হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ক্রমাগত বেড়ে চলা বিশৃঙ্খলা দমনে প্রেসিডেন্ট একটি স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ন্যাশনাল গার্ড দিয়েও যিদ বিক্ষোভ দমন করা না যায়, তাহলে প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীর সক্রিয় সদস্যদেরও মোতায়েন করা হবে। আশপাশের ক্যাম্পগুলোয় থাকা সেনা সদস্যরা এজন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তবে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম এ সিদ্ধান্তকে ‘ইচ্ছাকৃত উস্কানি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কোনো ঘাটতি নেই, তবু শুধু নাটক তৈরির জন্য ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।’

প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণাকে ‘পাগলামি’ মন্তব্য করে গভর্নর বলেন, ‘নিজ দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সেনা মোতায়েনের হুমকি দেয়া অবিবেচকের কাজ।’

তবে ট্রাম্প সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘নিউসাম আর লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন ব্যাস যদি তাদের দায়িত্ব পালন না করতে পারেন, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার হস্তক্ষেপ করবে। আমরা জানি, বিশৃঙ্খলা ও লুটপাট কীভাবে সমাধান করতে হয়।’

হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও অভিবাসন নীতির কট্টর সমর্থক স্টিফেন মিলার এই বিক্ষোভকে ‘সহিংস বিদ্রোহ’ বলে আখ্যা দেন। তবে হোয়াইট হাউসের দুজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এখনো ইনস্যারেকশন অ্যাক্ট (বিদ্রোহ আইন) প্রয়োগ করা হয়নি। এক কর্মকর্তা বলেন, ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মোতায়েনযোগ্য এবং তাদের দুই হাজার সদস্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ১৮০৭ সালের ইনস্যারেকশন অ্যাক্ট প্রয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দেশের অভ্যন্তরে সেনা মোতায়েনের অধিকার পান। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে দাঙ্গার সময় এই আইন প্রয়োগ হয়েছিল।

রয়টার্স জানায়, শনিবার প্যারামাউন্টে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গ্যাস মাস্ক পরা সবুজ ইউনিফর্মধারী নিরাপত্তাকর্মীদের দেখা গেছে। রাস্তায় উল্টে থাকা শপিং কার্টের মাঝ দিয়ে ধোঁয়ার ক্যান ছোড়া হয়। সেখান থেকে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করতেও দেখেছে রয়টার্স।

লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ এক্সে জানিয়েছে, ‘বারবার সতর্কতার পরও এলাকা না ছাড়ায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।’

এদিকে বিক্ষোভকারী রন গোচেজ (৪৪) বলেন, ‘এখন ওরা জানে, বিক্ষোভকারীদের ধরে নিয়ে ওরা কোথাও সমর্থন পাবে না। প্রতিটি জায়গায়ই সংগঠিত ও তীব্র প্রতিরোধ থাকবে।’

শুক্রবার রাতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪৪ জনকে আটক করে। এরপরই বিক্ষোভ শুরু হয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, শুক্রবারের বিক্ষোভে অংশ নেয় প্রায় এক হাজার দাঙ্গাবাজ।

অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন চিরলার নির্বাহী পরিচালক অ্যাঞ্জেলিকা সালাস জানান, আটককৃতদের সঙ্গে আইনজীবীরা দেখা করতে পারেননি, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

ট্রাম্প প্রতিদিন অন্তত তিন হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করতে আইসকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই অভিযান বৈধভাবে বসবাসরত অনেককেও টেনে এনেছে, এমনকি স্থায়ী বাসিন্দারাও আক্রান্ত হচ্ছেন—বলে জানান অভিবাসন অধিকারকর্মীরা। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন ব্যাস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। এই ধরনের অভিযান আমাদের শহরে নিরাপত্তার ধারণাকেই ধ্বংস করে দেয়। আমরা এটা মেনে নেব না।’