আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে মানিয়ে নিতে দুটি ঐতিহ্যবাহী বয়স গণনা পদ্ধতি বাদ দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এতে রাতারাতি দেশটির নাগরিকদের বয়স এক বা দুই বছর কমে গেছে। খবর বিবিসি।

একটা প্রথা অনুযায়ী, শিশুর গর্ভে থাকা সময় বিবেচনায় জন্মের সময় এক বছর বয়সী বলে গণ্য করা হতো। অন্যটিতে জন্মদিনের পরিবর্তে জানুয়ারির প্রথম দিনে শিশুর বয়স এক বছর ধরা হতো।

আজ বুধবার (২৮ জুন) এই দুটি পদ্ধতি বাতিল করেছে দেশটি। এর বদলে জন্ম তারিখের ওপর ভিত্তি করে বয়স গণনা কার্যকর হয়েছে। এ হিসেবে নাগরিকদের বয়স রাতারাতি এক বা দুই বছর কমে গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল গত বছর নির্বাচনের সময় এই পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছিলেন। প্রথাগত বয়স গণনা পদ্ধতিকে ‘অপ্রয়োজনীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক খরচ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বয়স গণনার বিভ্রান্তির কারণে দেশটিতে বীমা ও সরকারি সহায়তা কর্মসূচির বয়স নির্ধারণ নিয়ে প্রায়ই জটিলতা দেখা দেয়।

এর আগে সর্বাধিক ব্যবহৃত গণনা পদ্ধতিটি ছিল শতাব্দি-প্রাচীন ‘কোরিয়ান বয়স’ পদ্ধতি। যেখানে একজন ব্যক্তি জন্মের পর এক বছর বয়সী হন। আর এক জানুয়ারিতে আরেকটি বছর লাভ করেন। অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর জন্ম নেয়া শিশুর বয়স পরদিন হয়ে যায় দুই বছর।

এছাড়া ঐতিহ্যগতভাবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে জন্মের সময় শূন্য বলে বিবেচনা করা হয়। আর এক জানুয়ারিতে একটি বছর যোগ করে।

উদাহরণস্বরূপ, ২০০৩ সালের ২৯ জুন জন্ম নেয়ার ব্যক্তির বয়স আন্তর্জাতিক হিসেবে ১৯ বছর। কিন্তু কোরিয়ার একটি পদ্ধতিতে তার বয়স ২০ বছর, অন্যটিকে ২১ বছর।

গত ডিসেম্বরে প্রথাগত গণনা পদ্ধতি বাতিল করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন আইনপ্রণেতারা।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে স্থানীয় জরিপ সংস্থা হানকুকের নেয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি চার নাগরিকের মধ্যে তিনজন বয়স গণনার পদ্ধতি পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন।

ঐতিহ্যবাহী গণনা পদ্ধতি অনেক আগেই ছেড়ে এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ার দুই প্রতিবেশী। জাপান ১৯৫০ সালে আন্তর্জাতিক মান গ্রহণ করে, আর উত্তর কোরিয়া ১৯৮০ এর দশকে।