ফ্রান্সে পুলিশের গুলিতে নিহত তরুণ নাহেল মারজাউককে কবর দেয়া হয়েছে। ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং বন্ধুদের উপস্থিতিতে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার খবর দিয়েছে গার্ডিয়ান। অবশ্য যে মসজিদে তার জানাজা সম্পন্ন হয়, তার বাইরে ব্যাপক জনসমাগম হয়।

নাহেলের মৃত্যুর জেরে ফ্রান্সজুড়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়ের মাখোঁ তার জার্মানি সফর স্থগিত করেছেন। আজ রোববার (২ জুলাই) তার সেখানে গিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজের সঙ্গে একটি আলোচনায় বসার কথা ছিল।

এদিকে ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ৪৫ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার বিক্ষোভের পঞ্চম দিন সন্ধ্যায় প্যারিসে ৩৭ জন এবং মার্সেইতে আরো ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আগের রাতে, অর্থাৎ বিক্ষোভের চতুর্থ রাতে গ্রেফতার করা হয় ১ হাজার ৩১১ জনকে। দেশটির দেশটির বিচার বিষয়ক মন্ত্রী এরিক ডুপন্ট মোরেটি জানিয়েছেন, এদের এক তৃতীয়াংশেরই বয়স ১৮ বছরের কম। ওই দিন রাতভর চলা বিভিন্ন সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৮০ জন পুলিশ সদস্য।

এদিকে বিক্ষোভের মধ্যে অভিভাবকদের নিজেদের সন্তানদের বাসায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। তবে তা সত্ত্বেও রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ঘটতে দেখা গিয়েছে। ফ্রান্স কর্তৃপক্ষের হিসাব বলছে, চলমান বিক্ষোভে শনিবার পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ টি অগ্নিসংযোগ এবং দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

উল্লেখ্য, ২৭ জুন ট্রাফিক আইন ভাঙার অভিযোগে নাহেল মারজাউক নামে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, ওই তরুণ পুলিশকে লক্ষ্য করে গাড়ি চালিয়ে দিয়েছিল। তাকে থামানোর জন্য গুলি করা হয়েছে। অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই তরুণের গাড়ি থেমেই ছিল। রিভালবার তাক করে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা চালিয়ে যাচ্ছিলেন দুই পুলিশ সদস্য। এমন সময় ওই তরুণ পালানোর চেষ্টা করলে তাকে গুলি করা হয়।

এ ঘটনায় তার মৃত্যু হলে ২৮ জুন ফ্রান্সজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। প্যারিসের রাস্তায় রাস্তায় মানুষ ডাস্টবিনে আগুন ধরিয়ে দেয়, ভাঙচুর করা হয় গাড়িঘোড়া। ধীরে ধীরে শহর থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ।

এ ঘটনায় পুলিশকেই দোষী বলছে সরকার। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, এ ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। এটা ক্ষমার অযোগ্য। এক যুবকের এভাবে মৃত্যুকে কোনো যুক্তি দিয়েই ব্যাখ্যা করা যাবে না।

২০১৭ সালে পুলিশকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। পুলিশকে এই অনুমতি দেয়া ঠিক হয়েছে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশটিতে।