ব্রিটেনের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরকে গ্রেফতার করেছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। সরকারি দ্বায়িত্ব পালনের সময় অসদাচরণের অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে টেমস ভ্যালি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। যদিও এদিন সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকবে।

অনেকেই বলছেন, স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের নিজস্ব বাসভবন থেকে তার গ্রেফতার ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়ের সূচনা তৈরি করেছে। এমনকি এরপর বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—অ্যান্ড্রুর এ গ্রেফতার রাজপরিবারের কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন রাজা চার্লস। রাজতন্ত্রের অস্তিত্ব রক্ষায় তিনি অটল। কারণ গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজা চার্লস এক বিবৃতিতে জানান, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি রাজপরিবারের ‘পূর্ণ ও আন্তরিক সমর্থন এবং সহযোগিতা’ রয়েছে। বিবৃতিতে রাজা স্পষ্ট করে বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে’।

বিশ্লেষকরা লক্ষ্য করেছেন, বিবৃতিতে রাজা কোথাও অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তার ভ্রাতৃত্বের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেননি। বরং তাকে ‘অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। একে পারিবারিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে রাজকীয় কর্তব্যকে স্থান দেয়ার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘ ছয় দশক ধরে রাজপরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকা অ্যান্ড্রুর এ পতনকে আধুনিক সময়ে রাজতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় ‘ফল ফ্রম গ্রেস’ বা পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও প্রাসাদ কর্তৃপক্ষ বারবার ব্যক্তিগত জীবন ও জনজীবনের মাঝে সীমারেখা টানার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে রাজপরিবার ও রাজতন্ত্র অভিন্ন। এ বিষয়ে রাজকীয় বিশেষজ্ঞ এবং জোনাথন ডিম্বলবির মতো জীবনীকাররা বলছেন, রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে এ প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তি বা পরিবার থেকে আলাদা করে দেখার সময় এসেছে।

গত বছরের অক্টোবরের শেষে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস তার ছোট ভাই অ্যান্ড্রুর প্রিন্স উপাধি ও সম্মাননা বাতিল করেন। যদিও উত্তরাধিকারের সারিতে তার অবস্থান অষ্টম স্থানে রয়েছে। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা ‘জনপদ অফিসে অসদাচরণের’ অভিযোগ কেবল তাকেই নয়, বরং পুরো রাজতন্ত্রের ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এমনকি সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, রাজপ্রাসাদ এ বিষয়ে আরো আগেই পদক্ষেপ নিতে পারত কিনা।

রাজা চার্লস উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এ পারিবারিক সংকট কাটাতে যে দ্রুততা ও দৃঢ়তা দেখাচ্ছেন, তা হয়তো রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তি রক্ষায় কিছুটা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে এ আইনি লড়াইয়ের শেষ কোথায় এবং এটি রাজপরিবারের দীর্ঘমেয়াদি ভাবমূর্তিতে কতটা প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলে দেবে।

বিবিসি অবলম্বনে