মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিমান জ্বালানির সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ)। সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় আগেভাগেই সমন্বিত পরিকল্পনা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার প্রধান উইলি ওয়ালশ বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপে বিমান জ্বালানির সংকট দেখা দিতে পারে। বিষয়টিকে তিনি গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, মে মাসের শেষ নাগাদ ইউরোপে জেট জ্বালানির ঘাটতির কারণে কিছু ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। এরই মধ্যে এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে বলেও জানান তিনি।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ইরান হরমুজ প্রণালির চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয় এবং বিমান জ্বালানির সংকটের আশঙ্কা বাড়ে।

যদিও শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালি আবার খুলে দেয়া হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিবহন কোম্পানিগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে উইলি ওয়ালশ বলেন, জেট জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিলে প্রয়োজনে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ও সমন্বিত প্রস্তুতি থাকা দরকার।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি কমিশনার ড্যান জর্গেনসেনও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে শিগগিরই কিছু ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। সংকট দীর্ঘ হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিমান জ্বালানি ভাগাভাগির ব্যবস্থাও করতে হতে পারে বলে তিনি মত দেন।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র আনা-কাইসা ইতকোনেন বলেছেন, এ মুহূর্তে ব্যাপকভাবে ফ্লাইট বাতিলের মতো বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছে এমন কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি।