পুলিশ জানায়, তিনি গাজিয়াবাদের কবি নগরের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে এই কার্যক্রম চালাতেন। সেখানে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি এবং অর্থ পাচার চক্রে জড়িত ছিলেন তিনি।
এসটিএফের এসএসপি সুশীল ঘুলে জানান, অভিযানে তার কাছ থেকে কূটনৈতিক নম্বরপ্লেট সাঁটানো চারটি গাড়ি, ১২টি ভুয়া পাসপোর্ট, ২টি জাল প্যান কার্ড, ৩৪টি জাল সিলমোহর, নগদ ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ভারতীয় রুপি এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তি জাল ছবি তৈরি করে নিজেকে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করতেন। এসব ছবি ব্যবহার করে তিনি নিজের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতেন এবং মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, ২০১১ সালে একটি মামলায় হর্ষবর্ধন জৈনকে স্যাটেলাইট ফোনসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল। এবার তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও বেআইনি সম্পদ রাখার অভিযোগে একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা জানতেন না ওই বাড়িতে ভুয়া দূতাবাস চালানো হচ্ছিল। কারণ, বাড়ির সামনে বিলাসবহুল গাড়ির উপস্থিতি এবং বিভিন্ন ‘মাইক্রোকান্ট্রির’ পতাকা দেখে তারা ভেবেছিলেন, কোনো আসল কূটনীতিক সেখানে বাস করেন।
ঘটনার পর আলোচনায় এসেছে ‘ওয়েস্টার্কটিকা’ নামটি। এটি একটি কাল্পনিক দেশ, যা ২০০১ সালে মার্কিন নৌ-অফিসার ট্র্যাভিস ম্যাকহেনরি প্রতিষ্ঠার দাবি করেন। এর রয়েছে নিজস্ব পতাকা, ওয়েবসাইট ও প্রতীক; তবে কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। এটি মূলত একটি অলাভজনক সংগঠন হিসেবে নিবন্ধিত, যার লক্ষ্য পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা ছড়ানো।
হর্ষবর্ধন জৈনের গ্রেফতারের পর ‘ওয়েস্টার্কটিকা’ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তিনি শুধুমাত্র ‘অনারারি কনসাল টু ইন্ডিয়া’ পদে নিযুক্ত ছিলেন। তার কোনো কূটনৈতিক ক্ষমতা বা দূতাবাস পরিচালনার অনুমতি ছিল না। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে সংস্থাটির প্রোটোকল লঙ্ঘনের বিষয়টি নিশ্চিত করে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।










