গাজায় ইসরায়েলি হামলায় স্বজন হারিয়েছেন আলজাজিরার আরেক কর্মী। গত মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) রাতে উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে হামলায় কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির ব্যুরো অফিসের সম্প্রচার প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু আল-কুমসানের পরিবারের ১৯ সদস্য নিহত হন।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থীশিবিরে ওই হামলায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হন। আহত হন দেড় শতাধিক।

ওই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ ও ‘ক্ষমার অযোগ্য কাজ’ উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে আলজাজিরা।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি বোমা হালমায় আমাদের এসএনজি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবু আল-কুমসানের পরিবারের ১৯ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ জঘন্য ও নির্বিচারে বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে আলজাজিরা।

ওই হামলায় মোহাম্মদ আবু আল-কুমসানের বাবা, দুই বোন ও তাদের আট সন্তান, তার ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও তাদের চার সন্তান, ভগ্নিপতি ও এক চাচা নিহত হয়েছেন।

এর আগে ২৫ অক্টোবর ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন গাজায় আলজাজিরা ব্যুরো প্রধানের পুরো পরিবার। ইসরায়েলি সতর্ক বার্তার কারণে ওয়ায়েল আল-দাহদুহ তার পরিবারকে নিয়ে মধ্য গাজার নুসিরাত ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। সেখানেই হামলা করা হয়। ওই সময় আরেকটি এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ওয়ায়েল। হামলায় নিহতের মধ্যে ছিলেন আল-দাহদুহের স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও নাতি।

এছাড়া সংঘাতের শুরুর দিকে লেবাননের সীমান্তে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে আহত হন আলজাজিরার এক সংবাদিক। ১৩ অক্টোবরের ওই ঘটনায় ইসরায়েল থেকে ছোড়া গোলায় রয়টার্সের এক সাংবাদিক নিহত ও মোট ছয়জন আহত হয়।

গত ১৫ অক্টোবরে ইসরায়েলের যোগাযোগমন্ত্রী শ্লোমা কারহি জানান, আলজাজিরার স্থানীয় ব্যুরোকে বন্ধ করার চেষ্টা করছেন তিনি। গণমাধ্যমটিকে হামাসের পক্ষে উসকানি দেয়ার ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্ভাব্য আক্রমণের তথ্য প্রকাশের জন্য অভিযুক্ত করেন।

গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৮ হাজার ৮০৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আর স্থানীয় সংবাদকর্মীদের একটি সংস্থা জানায়, নিহতের মধ্যে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী রয়েছেন ৩৮ জন।