বায়ু ও সৌর শক্তির ক্ষমতা দ্বিগুণ করার পথে রয়েছে চীন। বিষয়টিতে এতই গুরুত্ব দিয়েছে যে আগে নেয়া রূপরেখার পাঁচ বছর আগেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চলেছে। এর আগে ২০৩০ সালকে সামনে রয়েছে ‘ক্লিন এনার্জি’ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল দেশটি। খবর সিএনএন।

অলাভজনক গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের সমীক্ষা অনুসারে, সম্ভাব্য সব প্ল্যান্ট তৈরি ও চালু হলে চীন ২০২৫ সালের মধ্যে এক হাজার ২০০ গিগওয়াট সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে।

সৌর সক্ষমতায় চীন বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে এগিয়ে। ২০১৭ সাল থেকে অনশোর ও অফশোরে ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়েছে। যা অন্য শীর্ষ সাতটি দেশের সম্মিলিত উৎপাদনের সমান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে প্রণোদনা ও নীতির সমন্বয় ঘটিয়েছে চীন। ২০২০ সালে প্রতিশ্রুতি দেয়, তারা ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ দেশে পরিণত হবে।

বর্তমানে বৈশ্বিক দূষণের অন্যতম উৎস কয়লার ব্যবহার। এই ক্ষেত্রে চীনের অবদান অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। সেখান থেকে দেশটি নবায়নযোগ্য শক্তিতে বৈশ্বিক নেতা হতে যাচ্ছে।

গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের গবেষক মার্টিন ওয়েইল এক বিবৃতিতে বলেছেন, চীন অগ্রগতি করছে। কিন্তু কয়লা এখনো প্রভাবশালী শক্তির উৎস হিসেবে আধিপত্য বজায় রেখেছে। নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য শক্তি সঞ্চয় ও সবুজ প্রযুক্তিতে আরো সাহসী হওয়া দরকার।

সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার ও গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছর চীনে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুতের পারমিট দ্রুত গতিতে বেড়েছে। যা ২০১৫ সালের পর শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছেছে।

মূলত বিধ্বংসী তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে দেশটিতে গত বছর কয়লার ব্যবহার বেড়েছে। ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে নদী শুকিয়ে যাওয়ার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়।

জলবায়ু থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইথ্রিজির সিনিয়র উপদেষ্টা বাইফোর্ড সাং বলেন, কয়লার ওপর চীনের নির্ভরতা বিশ্বব্যাপী সবুজ শক্তি লক্ষ্যমাত্রার জন্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ। কিন্তু বায়ু ও সৌর শক্তিতে অগ্রগতি একটি ইতিবাচক লক্ষণ।

তিনি আশা করেন, তুলনামূলক সস্তা নবায়নযোগ্য শক্তি চীনকে কয়লা ত্যাগে প্ররোচিত করবে।

২০২১ সালে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা আইইএ বলেছিল, নতুন কয়লা-চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করা যাবে না। তেল ও গ্যাসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কারণ বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে এর কোনো বিকল্প নেই।