মিয়ানমার ও রাশিয়া পাঁচ বছরের একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, এ চুক্তির মেয়াদ থাকবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে জান্তা সরকারের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে রাশিয়ার সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২১ সালে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে রাশিয়া ও প্রতিবেশী চীনের সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে জান্তা সরকার।

রাশিয়ায় তৈরি যুদ্ধবিমান দিয়ে চালানো বিমান হামলার মাধ্যমে বিদ্রোহী বাহিনীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে জান্তা। তবে বিভিন্ন সংঘাত পর্যবেক্ষক সংস্থার মতে, এসব হামলায় বেসামরিক নাগরিকরাও নিয়মিতভাবে লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সোমবার মিয়ানমার সফর করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সের্গেই শোইগু। তার এ সফর শেষে দুই দেশের মধ্যে নতুন সামরিক সহযোগিতা চুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়।

মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও ‘প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার’ করার লক্ষ্যে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে রাশিয়া ও মিয়ানমার—কোনো পক্ষই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর রুশ যুদ্ধবিমান ব্যবহারের বিষয়টি অনেক দিন ধরেই প্রকাশ্য। তবে অনেক সংঘাত পর্যবেক্ষকের দাবি, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাতে রাশিয়াকে সহায়তার অংশ হিসেবে মিয়ানমার থেকেও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

তাসের বরাতে সের্গেই শোইগু বলেন, ‘মিয়ানমারের নেতৃত্বের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা জোরদারের নীতিকে রাশিয়া পূর্ণ সমর্থন জানায়।’

তিনি মিয়ানমারের জান্তা কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে আরো বলেছেন, ‘রাশিয়া ও মিয়ানমারের ওপর পশ্চিমা চাপ বন্ধ হবে না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনসহ সব ক্ষেত্রে মস্কোর সর্বাত্মক সহায়তার ওপর আপনারা পুরোপুরি নির্ভর করতে পারেন।’

সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারকে পশ্চিমা বিশ্ব কার্যত একঘরে রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। একইভাবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর রাশিয়াও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এর মধ্যেই মিয়ানমারের সামরিক সরকার মাসব্যাপী নির্বাচন শেষ করেছে। জান্তার দাবি, এটি গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন এবং পাঁচ বছরের সামরিক শাসন ও গৃহযুদ্ধের পর শান্তির পথে ফেরার সুযোগ তৈরি করবে। তবে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত বিস্তীর্ণ এলাকায় ভোটগ্রহণ সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি কারাবন্দি গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি ও তার দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখায় বিদেশে এ নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।

সরকারি ফল অনুযায়ী, সেনাবাহিনী-সমর্থিত দল হিসেবে পরিচিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ৮০ শতাংশের বেশি আসনে জয় পেয়েছে। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এ নির্বাচনকে অবৈধ ও সেনাশাসনকে নতুনভাবে বৈধতা দেয়ার কৌশল বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ভোট আয়োজন দেশটির চলমান গৃহযুদ্ধ থামাতে পারবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।