চীনে ব্যবসা পরিচালনা করা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো দ্রুত সরবরাহ চেইনে বৈচিত্র্য আনছে। বেইজিংয়ের স্বনির্ভরতা নীতি ও রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ায় এসব প্রতিষ্ঠান এখন নতুন বিকল্প খুঁজছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স ইন চায়নার (ইইউসিসিসি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।

ব্যবসায়িক সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বর পর্যন্ত চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের পর ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রফতানি বাড়ার কারণে এ উদ্বৃত্ত সম্ভব হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি আগের বছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রফতানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

ইইউ-চীন বাণিজ্য ঘাটতি গত কয়েক বছরে অনেক বেড়েছে। ইউরোপ যে পরিমাণ পণ্য চীনে পাঠায়, তার তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি পণ্য দেশটি থেকে আসে। ২০১৯ সালে এ ব্যবধান ছিল আড়াই গুণের কিছু বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে টানা ৩৭ মাস ধরে ‘ফ্যাক্টরি গেট ডিফ্লেশন’ চলছে। কারখানা চত্বরে পণ্য ছাড়ার সময় প্রস্তুতকারকের দিক থেকে দাম কমানোকে ফ্যাক্টরি গেট ডিফ্লেশন বলা হয়। অন্যদিকে ইউরোপে দাম বাড়ছে। চীনে দাম কমা ও ইউরোপে দাম বাড়ার এ বৈপরীত্য ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

ইইউসিসিসির প্রেসিডেন্ট জেন্স এসকেলুন্ড বলেন, ‘চীনে দাম কমছে আর ইউরোপে দাম বাড়ছে। এ পার্থক্য মুদ্রাবিনিময় হারেও প্রভাব ফেলছে।’

চীনের দুষ্প্রাপ্য খনিজ ও গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের ওপর রফতানি নিয়ন্ত্রণ ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের চাপে ফেলেছে। কেউ কেউ উৎপাদন বন্ধের পাশাপাশি লাখ লাখ ইউরো ক্ষতির কথা জানিয়েছে।