আকাশসীমা লঙ্ঘন করার অভিযোগে রাশিয়ার কূটনীতিককে তলব করেছে পোল্যান্ড সরকার। পাশাপাশি এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে ন্যাটোর অন্যতম সদস্যরাষ্ট্রটি। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।

সম্প্রতি ইউক্রেনে সামরিক হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। এর অংশ হিসেবে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এ সময় পোল্যান্ডে রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশের অভিযোগ আসে।

পোল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ নিশ্চিত করেছেন যে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সম্প্রতি অনুমতি ছাড়াই পোলিশ আকাশসীমায় প্রবেশ করে। সেটি পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ৩ মিনিটের কম সময় অবস্থান করে। এছাড়া ইউক্রেন জানায়, দেশটির বিভিন্ন শহরে ব্যাপক হামলা হয়েছে।

পোলিশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ন্যাটো উভয়ের রাডার সিস্টেমে ওই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে। সে সময় পোল্যান্ডের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলো প্রস্তুত করা হয়েছিল।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ওয়ারশতে রুশ দূতাবাসের চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স আন্দ্রেই অরদাশের বরাত দিয়ে বলা হয়, পোল্যান্ড সীমান্তসীমা লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ দেয়নি। 

পোল্যান্ডের আর্মড ফোর্সেস অপারেশনাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, শুক্রবার সকালে পোল্যান্ডের ঘাঁটি থেকে দুটি পোলিশ ও দুটি আমেরিকান এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সীমান্তের কাছে দূরপাল্লার রুশ বিমানগুলোকে বাধা দেয়।

আন্দ্রেই অরদাশ জানান, তাকে একটি নোট দেয়া হয়েছিল। এতে ভিত্তিহীন দাবি ছিল যে শুক্রবার সকালে পোলিশ আকাশসীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। একে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন পোলিশ বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এর কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। নোটে যা ছিল, তার প্রমাণ দেখানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

পোল্যান্ডের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাডিস্লাউ টিওফিল বার্তোসজেভস্কি জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে পোল্যান্ড দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরো জানান, রাশিয়ার চার্জ দি অ্যাফেয়ার্সকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে এ ধরনের প্রচেষ্টার পুনরাবৃত্তি হলে পোল্যান্ড আরো কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে। 

এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে ইউক্রেনের একটি ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ পোল্যান্ডের প্রজেওদো গ্রামে আঘাত হানে। এ ঘটনা সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ায়। এছাড়া গত এপ্রিলে পোল্যান্ডের জঙ্গলে রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়া যায়।