সংঘাত প্রশমনে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন। এতে জানানো হয়, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সেনা চলাচল স্থগিত রাখার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার বেসামরিক নাগরিকদের নিজ নিজ ঘরে ফেরার অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এ তীব্র সীমান্ত সংঘাতে অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ১০ লাখ মানুষ। খবর বিবিসি।
স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা) এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দেয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ৭২ ঘণ্টা এ যুদ্ধবিরতি বহাল রাখা গেলে থাইল্যান্ডের হাতে আটক থাকা ১৮ জন কম্বোডীয় সেনাকেও মুক্তি দেবে ব্যাংকক। কয়েকদিন আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে দেখা দেয়া এ সংঘাত বন্ধের প্রয়াসে এ অগ্রগতি অর্জন হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতির যেসব শর্তে উভয় পক্ষ সম্মতি জানিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—উভয় পক্ষই একে অন্যের বেসামরিক নাগরিক, বেসামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ বন্ধ করবে। কোনো ধরনের প্ররোচনার ঘটনা না ঘটলে"উভয় পক্ষই একে অন্যকে লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ, অন্য পক্ষের অবস্থান বা সৈন্যদের দিকে অগ্রসর হওয়া বা সেনা সমাবেশ এড়িয়ে চলবে।
এছাড়া কুয়ালালামপুর ঘোষণার আলোকে আটক ১৮ কম্বোডীয় সেনাকে মুক্তি দেবে থাইল্যান্ড। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে গত অক্টোবরে দুই দেশ এ ঘোষণায় সই করে। যদিও চলতি ডিসেম্বরের শুরুতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে এ ঘোষণার আওতায় দেয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। এ যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার জন্য উভয় পক্ষ একে অন্যকে দায়ী করছে।
থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর দাবি, সি সা কেট প্রদেশে কম্বোডিয়ার গোলাবর্ষণে দুজন সেনা আহত হওয়ার পর থাইল্যান্ডের সেনারা পাল্টা জবাব দেয়।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করছে, থাই বাহিনীই প্রথম দেশটির প্রিয়াহ ভিহার প্রদেশে আক্রমণ করেছিল। চলতি ডিসেম্বরজুড়ে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত চলতে থাকে। কম্বোডিয়ার একটি বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় থাইল্যান্ড শুক্রবার বিমান হামলা চালায়। থাই বিমান বাহিনীর দাবি, স্থানীয় বেসামরিক নাগরিকরা সরে যাওয়ার পরই তারা কম্বোডিয়ার একটি সুরক্ষিত সামরিক অবস্থানে আঘাত হেনেছে। যদিও কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, বেসামরিক নাগরিকদের বাড়িঘরের ওপরও নির্বিচারে আক্রমণ করেছে থাই বিমান বাহিনী।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে এ সীমান্ত বিরোধ ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের পুরনো। গত মে মাসে এক সংঘাতে এক কম্বোডীয় সেনার মৃত্যুর পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর দুই মাস পর জুলাইয়ে সীমান্তে পাঁচদিনের তীব্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ। এতে বহু সৈন্য ও বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়। বাস্তুচ্যুত হয় আরো হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ।










