চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দেড় বছর পর বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে নির্বাচন। সঙ্গে আয়োজন করা হয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট।
জেন জি আন্দোলন পরবর্তী প্রথম নির্বাচন হওয়ায় পুরো বিশ্বের মধ্যে একে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে ঢাকায় এসেছেন ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশী সাংবাদিক। তাই বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনের খবর বহুল প্রচারিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে বেশ ঢালাওভাবে প্রচারিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘এক উৎসব: আশা নিয়ে ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে বাংলাদেশ’। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছে বিপুল সংখ্যক মানুষ। তাদের আশা এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।
প্রতিবেদনে এই নির্বাচনকে আখ্যা দেওয়া হয় জেন জি অভ্যুত্থান পরবর্তী বিশ্বের প্রথম নির্বাচন হিসেবে। আগামী মার্চে নেপালে একই ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এছাড়াও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে চলমান সার্বিক পরিস্থিতি।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের নির্বাচনের লাইভ নিউজ আপডেট দেওয়া হচ্ছে। লাইভের শিরোনাম, ‘জেন জি অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচন’।
লাইভ সংবাদে তুলে ধরা হয়েছে, ১২ কোটিরও বেশি মানুষ এবারের নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মূল অংশগ্রহণকারী দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে বিগত দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশ কঠোরতা রয়েছে। সহিংসতার শঙ্কায় দেশে ১০ লাখের কাছাকাছি আইনশৃঙ্খলা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা একইভাবে তাদের ওয়েবসাইটে লাইভ আপডেট প্রচার করছে। হোমপেজে লাইভের শিরোনাম, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে হাসিনাকে উৎখাতের পর বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচন’।
লাইভ সংবাদে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নির্বাচন ও গণভোটে মানুষের অংশগ্রহণের অবস্থাসহ দেশের অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে নির্বাচন ঘিরে বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের ছড়াছড়ির সমস্যাটি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিগত তিনটি নির্বাচন কেমন ছিল তা নিয়েও বলা হয়েছে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেও তাদের ওয়েবসাইটে দিচ্ছে লাইভ আপডেট। লাইভের শিরোনাম, ‘বাংলাদেশ: ২০২৪ এর অভ্যুত্থানের পর ভোটাররা যাচ্ছেন ভোট দিতে’।
লাইভ সংবাদে, গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিভিন্ন দলের নেতাদের মতামত ও দেশের মানুষরা সক্রিয়ভাবে ভোট দিতে যাচ্ছে তা তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া, বিশ্বের প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলো গুরুত্বসহকারে বাংলাদেশের নির্বাচন সংক্রান্ত সংবাদ প্রচার করছে।










