গ্রিসের দক্ষিণ উপকূলে ডুবে যাওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীদের নৌকায় ১০০ এর মতো শিশু ছিল বলে জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা। ওই ঘটনায় এরই মধ্যে অন্তত ৭৮ জন নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি। খবর বিবিসি।

গ্রিক কর্মকর্তা ও উদ্ধার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নৌকায় কয়েকশো অভিবাসন প্রত্যাশী ছিলেন। কোনো কোনো প্রতিবেদন অনুসারে, মাছ ধরার ওই নৌকায় যাত্রী ছিল ৭৫০ জন।

দেশটির সরকার বলছে, গ্রিসে সবচেয়ে বড় অভিবাসী ট্রাজেডির অন্যতম এটি। পালিত হচ্ছে তিনদিনের শোক।

স্থানীয় টিভি জানিয়েছে, মানব পাচারে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজন মিসরীয়সহ নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নৌকাটি মিসর থেকে খালি রওনা হয়েছিল। পথে লিবিয়ার টোব্রুক বন্দরে থামে। সেখান থেকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বলে জানাচ্ছে গ্রিসের মিডিয়া।

প্রাপ্ত চিত্রে দেখা যায়, নৌকার ডেক মানুষে পরিপূর্ণ ছিল। তবে ডেকের নিচে বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশুর থাকার কথা চিকিৎসকদের জানান উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা।

গ্রিসের কালামাটা জেনারেল হাসপাতালের একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক জানিয়েছেন, জাহাজটিতে ১০০ শিশু ছিল।

কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. ম্যানোলিস মাকারিস বলেন, তারা আমাদের বলেছিল যে নৌকার নিচের অংশে শিশু ও নারীরা ছিল।

দুজন রোগী তাকে আনুমানিক সংখ্যা জানিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, একজন আমাকে ১০০ শিশুর কথা বলেছিল, অন্যজন প্রায় ৫০। তাই আমি সত্য জানি না। তবে এ সংখ্যা অনেক।

ডা. মাকারিসের অনুমান এ দুর্ঘটনায় ৬০০ জনের মতো অভিবাসন প্রত্যাশী নিহত হতে পারেন।

গত ১৩ জুন গভীর রাতে ইইউ সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি উড়োজাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌকাটি দেখতে পায়। ওই নৌকায় কারো লাইফ জ্যাকেট ছিল না বলে জানায় কোস্টগার্ড।

গ্রিসের নৌ মন্ত্রণালয় জানায়, স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে নৌকাটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সাহায্যের প্রস্তাব দেয়া হলেও জবাবে বারবার বলা হয়েছিল, আমরা ইতালি যাওয়া ছাড়া আর কিছুই চাই না।

এর কয়েক ঘণ্টা পর গ্রিক কোস্টগার্ডকে জানানো হয়, নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেছে। তারপর মাত্র ১০-১৫ মিনিটের ব্যবধানে ডুবে যায়। এই সময় প্রবল বাতাসের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়।

নৌকাটি লিবিয়া থেকে ইতালি যাচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আরোহীদের অধিকাংশই ২০ বছর বয়সী পুরুষ।

প্রতি বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে শত শত অভিবাসন প্রত্যাশী নিহত হন। গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ ইতালিতে অভিবাসী বহনকারী নৌকা ডুবে কমপক্ষে ৯৪ জন মারা যান। রেকর্ডকৃত সবচেয়ে মারাত্মক ঘটনাগুলোর অন্যতম এটি।

মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের অন্যতম রুট গ্রিস। গত মাসে দেশটির সরকার অভিবাসীদের জোরপূর্বক বহিষ্কারের জন্য আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, পুশব্যাকের আশঙ্কায় ডুবে যাওয়ার আগে যাত্রীরা কোস্টগার্ডের সাহায্য নিতে অস্বীকার করেছিল।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই বছর ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতে ৭০ হাজারেরও বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী এসেছেন। যাদের বেশিরভাগই ইতালিতে প্রবেশ করেন।