প্রয়াত হয়েছে নোবেলজয়ী রসায়নবিদ জন গুডেনাফ। গত রোববার (২৫ জুন) টেক্সাসের বাসস্থানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। টেক্সাস ইউনিভার্সিটির বরাতে এই খবরটি দিয়েছে রয়টার্স।

২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি বয়সী নোবেল জয়ী হিসেবে রেকর্ডের খাতায় নাম লেখান গুডেনাফ। ওই সময় তার বয়স ছিল ৯৭ বছর।

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির বিকাশে গুডেনাফের অগ্রগণ্য ভূমিকা রয়েছে। শক্তির এই উৎস সেলফোন ও কম্পিউটার থেকে শুরু করে পেসমেকার ও বৈদ্যুতিক গাড়ি পর্যন্ত ডিভাইসের জন্য নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রযুক্তিকে সহজ করেছে।

জন গুডেনাফের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সুর্নিদিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি।

ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত আমেরিকান বিজ্ঞানী এম স্ট্যানলি হুইটিংহাম ও জাপানের আকিরা ইয়োশিনোর সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান গুডেনাফ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুডেনাফ ও তার দল বিদ্যুৎশক্তি সঞ্চয়ের নতুন পথ খুঁজছিলেন। যার মধ্যে সলিড-স্টেট ইলেক্ট্রোলাইট ও লিথিয়াম বা সোডিয়াম ধাতব ইলেক্ট্রোডসহ ‘গ্লাস’ ব্যাটারি রয়েছে।

নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর গুডেনাফ বলেছিলেন, ৯৭ বছর বেঁচে থাকুন। তবে আপনি যেকোনো কিছু করতে পারবেন। ৬৫ বছর বয়সে অবসর নিতে বাধ্য হননি বলেও কৃতজ্ঞতা জানান।

১৯২২ সালে জার্মানির জেনায় জন্মগ্রহণ করেন গুডেনাফ। তার বেড়ে উঠা যুক্তরাষ্ট্রে ও শিকাগো ইউনিভার্সিটি থেকে রসায়নে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে কর্মজীবন শুরু করেন। এখানে ডিজিটাল কম্পিউটারের জন্য র‌্যান্ডম-অ্যাক্সেস মেমরির বিকাশে ভিত্তিমূলক কাজ করেন।

লিথিয়াম-আয়ন আবিষ্কারকালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অজৈব রসায়ন গবেষণাগারের প্রধান ছিলেন গুডনেফ। সর্বশেষ কর্মস্থল টেক্সাস ইউনিভার্সিটিতে ৩৭ বছর শিক্ষকতা করেন তিনি।

গুডেনাফের স্ত্রী আইরিন ২০১৬ সালে মারা যান। তাদের বিবাহিত জীবন ছিল ৭০ বছরের।