ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবে ইউরোপীয় দেশ ও ইউক্রেন যে পরিবর্তনগুলো প্রস্তাব করেছে, তাতে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের মতে, এসব সংশোধনী মূল প্রস্তাবকে কার্যকর করছে না এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথও সুগম করছে না। খবর রয়টার্স।
গতকাল রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে এসব কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইউরোপীয় ও ইউক্রেনীয় কূটনীতিকরা যে পরিবর্তনগুলো এনেছেন বা আনার চেষ্টা করছেন, সেগুলো শান্তি প্রস্তাবের মান উন্নত করেনি। এসব সংশোধনী শান্তিচুক্তির দলিলকে আরো দুর্বল করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদে শান্তি অর্জনের সম্ভাবনাও বাড়ায়নি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এটি কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে রাশিয়ার অবস্থান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে। শনিবার ফ্লোরিডায় মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার রাশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর রাশিয়ার বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ বলে মন্তব্য করেন এবং জানান, আলোচনা আরো চলবে। তবে কোনো নির্দিষ্ট অগ্রগতি বা চুক্তির ইঙ্গিত তিনি দেননি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউক্রেনের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামোটি পুনর্বিবেচনা করছেন। তাদের দাবি, মূল প্রস্তাবটি রাশিয়ার জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক এবং এতে ইউক্রেনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা যথেষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এ কারণে তারা প্রস্তাবে পরিবর্তনের কথা তুলেছেন। তবে রাশিয়া মনে করে, এসব পরিবর্তন আলোচনাকে আরো জটিল করে তুলছে।
২০১৯ সালের দিকে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের পর ইউক্রেন যুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতে পরিণত হয়েছে। কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলো বারবার ভূখণ্ড সংক্রান্ত ছাড় ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে আপোষ না করার কথা বলেছে। এ নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো শান্তিচুক্তি তারা মেনে নেবে না বলেও জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক কার্যক্রম চললেও, ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকায় শান্তি আলোচনায় দ্রুত অগ্রগতি এখনো কঠিন। ক্রেমলিনের সর্বশেষ মন্তব্য সেই বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।










