সুদানে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের মধ্যে যে শহরকে কিছুটা নিরাপদ মনে করা হতো, সে পোর্ট সুদান এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। ফলে শহরটিতে বিদ্যুৎ ও পানির মতো জরুরি সুবিধাগুলোর ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিবিসির খবর অনুযায়ী, শহরটিতে সুপেয় ও নিত্যব্যবহার্য পানির দাম এক সপ্তাহ আগের তুলনায় অন্তত পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে।

গত কয়েক দিন দেশটির প্যারামিলিটারি গ্রুপ র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) বোমাবর্ষণের ফলে অস্থির হয়ে উঠেছে পোর্ট সুদান। ছয় দিনব্যাপী ড্রোন হামলার পর, গতকাল পর্যন্ত তিনটি জ্বালানি ডিপোর আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। ডিপোগুলোয় বিস্ফোরণের ফলে ব্যাপক ডিজেল সংকটে পড়েছে শহরটি। ডিজেল না থাকায় পাম্পের সাহায্যে ভূগর্ভস্থ পানিও তোলা যাচ্ছে না। পানির অভাব শহরটিতে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।

দুই বছরের বেশি সময় আগে আরএসএফ ও দেশটির সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের মাধ্যমে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। যুদ্ধ ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বাস্তুচ্যুতির শিকার ২৬ বছর বয়সী এক তরুণের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, গত সপ্তাহে একদিনের পানির জন্য তাকে ২ হাজার সুদানি পাউন্ড (৩ দশমিক ৩ ডলার) খরচ করতে হতো। এখন সে পরিমাণ পানির জন্য খরচ হচ্ছে ১০ হাজার সুদানি পাউন্ড। তার পরও প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

শুধু পানি নয়, গত কয়েক দিনের সংঘর্ষ ও হামলার ফলে শহরের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা স্তব্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুতের অভাবে ফ্যান, বাতি বা অন্যান্য যন্ত্রপাতিও অকেজো হয়ে পড়ে আছে। জ্বালানি সংকটের ফলে মানুষ পেট্রল পাম্পগুলোর আশপাশে ভিড় করতে শুরু করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর হয়তো সামান্য পেট্রল পাওয়া যেতে পারে।

বর্তমানে সুদানে ১০টি অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ চলছে, আরো ১৭টি অঞ্চল রয়েছে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে। ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সহায়তাকারী সংস্থাগুলো সারা দেশে ত্রাণ পরিবহনের জন্য এ শহরের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কারণ এটি বন্দর এলাকা। সুদানে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মুখপাত্র লেনি কিঞ্জলি বলেছেন, ‘বন্দরটির ওপর হামলা হওয়ায় ত্রাণ পরিবহন ও বিতরণেও হিমশিম খাবে সহায়তা সংস্থাগুলো।’