২০১৮ সাল থেকে বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছিল। যুক্তরাজ্য অনেক চিন্তাভাবনার পর এরকম একটি উদ্যোগ বাস্তবায়নে হাত দিচ্ছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কীটনাশক হ্রাসের লক্ষ্য আরো বড়। তাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ও ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহারও কমানোর পরিকল্পনা করেছে তারা।
যুক্তরাজ্যের সরকার একটি নতুন সূচক চালু করবে, যা তাদের অর্জিত লক্ষ্যের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। একইসঙ্গে, সমন্বিত পেস্ট ম্যানেজমেন্টও (আইপিএম) উৎসাহিত করা হবে, যা কীটনাশক ছাড়াই ফসলের কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের একটি উপায়। এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট কীটপতঙ্গকে আকর্ষণ করতে পারে ফসলের পাশে এমন গাছপালা রোপণ করা হতে পারে, যাতে তারা ফসলের পরিবর্তে সেই গাছের দিকে মনোযোগ দেয়। এছাড়াও, কীটপতঙ্গ কমানোর জন্য মাংসাশী পোকা বা অন্যান্য শিকারী প্রাণীদেরও ব্যবহার করা হতে পারে।
যুক্তরাজ্য মৌমাছি ও অন্যান্য কীটপতঙ্গের সুরক্ষার জন্য যে উদ্যোগ নিচ্ছে তা বাস্তবায়নের জন্য কঠোর নীতি নির্ধারণেরও চেষ্টার কথা জানিয়েছে। বলা হচ্ছে, যারা কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে ব্যর্থ হবে তাদের জন্য থাকবে শাস্তির ব্যবস্থা।
দেশটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠনগুলোর জোট—পেস্টিসাইড কোলাবোরেশনের মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা আনন্দিত যুক্তরাজ্যের সরকার প্রথমবারের মতো কীটনাশক হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যদিও আমরা আশা করেছিলাম, তারা আরো বেশি মাত্রায় কীটনাশক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে, তবু এ উদ্যোগকে আমরা গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি। কারণ, তারা শুধু কীটনাশকের পরিমাণ নয়, এর বিষাক্ততার বিষয়টিও বিবেচনায় নিচ্ছে। এটি স্পষ্ট বার্তা দেয়— পরিবেশের ওপর কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাবকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কৃষকদের কীটনাশকের বিকল্প ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যদিও শহরাঞ্চলে কীটনাশক ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই, তবুও সরকার আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে এটি ভবিষ্যতে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।’
ফ্রেন্ডস অব আর্থের প্রকৃতি সংরক্ষণ কর্মী পল ডে জিলভা বলেন, ‘এই পরিকল্পনায় শহরাঞ্চলে কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ না থাকাটা বড় ধরনের ত্রুটি। সরকারকে অবশ্যই শহরের পার্ক ও রাস্তার ধারে কীটনাশক ও আগাছানাশকের ব্যবহার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।’
কৃষকরা এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানালেও তারা সরকারকে কীটপতঙ্গ খাদক শিকারী পোকামাকড়ের জন্য বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলতে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন। নেচার ফ্রেন্ডলি ফার্মিং নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী মার্টিন লাইনস বলেন, ‘বহুল প্রত্যাশিত কর্মপরিকল্পনাকে আমি স্বাগত জানাই। এতে কীটনাশক হ্রাসের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়ন করতে পারবে কিনা, তা এখনো প্রমাণিত হয়নি।’
যুক্তরাজ্যে কীটনাশক ব্যবহারের বিরুদ্ধে সরকারের সর্বশেষ পদক্ষেপ এটাই। এর আগে সরকার মৌমাছির জন্য বিষাক্ত নিওনিকোটিনয়েড কীটনাশক নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের পরিবেশমন্ত্রী এমা হার্ডি বলেন, ‘আমাদের প্রাকৃতিক বিশ্ব পুনরুদ্ধার করা এবং পরিবেশ রক্ষা করাই সরকারের লক্ষ্য, তবে একইসঙ্গে উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সমর্থন করাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা ইংল্যান্ডে মৌমাছি হত্যাকারী কীটনাশক নিষিদ্ধ করেছি। কৃষক ও চাষিদের টেকসই চাষ পদ্ধতি গ্রহণে সহায়তা করতে আমরা প্রতিশ্রুতিশীল।’










