বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতের জন্য এক ভয়ংকর বছর ছিল ২০২৪। সংঘাতকবলিত অঞ্চলে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এ সময়ে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। যা এ যাবৎকালে রেকর্ড সংখ্যক বলে দাবি করেছে বৈশ্বিক অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সংঘাত ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা জোট’ (এসএইচসিসি)। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। হামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান ও ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, হাসপাতাল ও ক্লিনিক দখল বা লুটপাট, স্বাস্থ্যকর্মীদের গ্রেফতার ও অপহরণ।
এসএইচসিসি জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রে কোথাও না কোথাও গড়ে প্রতিদিন ১০ বার করে স্বাস্থ্যসেবার ওপর আঘাত এসেছে। এই হামলা শুধু নিরীহ মানুষকেই বিপন্ন করেনি, বরং চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও বিপর্যস্ত করেছে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আরো ভয়ংকর হতে পারে।
এই সহিংসতার সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছে গাজা ও পশ্চিম তীর। সেখানেই সংঘটিত হয়েছে মোট হামলার এক-তৃতীয়াংশের বেশি। এছাড়া ইউক্রেন, লেবানন, মিয়ানমার ও সুদানেও শত শত হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোট ৩ হাজার ৬২৩টি হামলার মধ্যে ১ হাজার ১১১টি ঘটনায় হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৯২৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন, ৪৭৩ জন গ্রেফতার ও ১৪০ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। এসব ঘটনার ৮১ শতাংশই ঘটিয়েছে রাষ্ট্রীয় বাহিনী, যা যুদ্ধের আইন ভয়াবহভাবে লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে স্বাস্থ্যকর্মীদের গ্রেফতারে সবচেয়ে বেশি জড়িত। ২০২৪ সালের স্বাস্থ্যকর্মী গ্রেফতারের ৫৫ শতাংশই ঘটেছে এই তিন অঞ্চলে। এসব আটক কেন্দ্রে বন্দিদের শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে।
প্রতিবেদনে বিস্ফোরক ব্যবহারের ঊর্ধ্বগতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের হার ছিল ৩৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ শতাংশে।
এসএইচসিসি-এর চেয়ারম্যান লিওনার্ড রুবেনস্টাইন বলেন, যুদ্ধকালীন স্বাস্থ্যসেবার আন্তর্জাতিক সুরক্ষাকে খর্ব করার চেষ্টা চলছে। চলছে যুদ্ধের নৃশংসতাকে বৈধ করার চেষ্টা। প্রতিবেদনটির তথ্য সংগ্রহে নেতৃত্ব দেওয়া ইনসিকিউরিটি ইনসাইটের পরিচালক ক্রিস্টিনা উইলে বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধা একেবারে শেষ হয়ে গেছে। এখনই সময় একটি কঠোর, নির্ণায়ক ও একতাবদ্ধ জবাব দেয়ার।










