সুইজারল্যান্ডে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ (এমঅ্যান্ডএ) কার্যক্রম চলতি বছর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি শক্তিশালী স্থানীয় মুদ্রার চাপ থাকা সত্ত্বেও দেশটির করপোরেট খাতে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।
এফটির সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে সুইস কোম্পানিগুলো প্রায় ১৬ হাজার ৩০০ কোটি ডলার সমমূল্যের এমঅ্যান্ডএ চুক্তি করেছে। সুইস কোম্পানি সংশ্লিষ্ট এমঅ্যান্ডএ চুক্তির প্রস্তাবও এখন ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে।
এমঅ্যান্ডএ খাতে প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে সুইস ফ্রাঁর শক্তিশালী অবস্থান। গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মুদ্রাটি মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ১৪ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে। ইউরোর বিপরীতেও ফ্রাঁর বিনিময় হার কিছুটা বেড়েছে।
সাধারণত শক্তিশালী মুদ্রা কোনো দেশের কোম্পানিকে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ব্যয়বহুল করে তোলে। তবে ব্যাংকারদের মতে, সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
চলতি বছরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চুক্তি ছিল সুইডিশ-সুইস প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এবিবির। নিজেদের রোবটিকস ব্যবসার একটি বড় অংশ জাপানের সফটব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে সম্মত হয়েছে কোম্পানিটি। ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের এ চুক্তি ইউরোপের অন্যতম বড় লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ চুক্তিকে এবিবির দীর্ঘদিনের ব্যবসা সরলীকরণ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বীমা খাতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। সুইজারল্যান্ডের দুটি শীর্ষ বীমা কোম্পানি হেলভেশিয়া ও বালোয়েজ একীভূত হয়ে নতুন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এ একীভূতকরণের মাধ্যমে দেশটির বীমা বাজারে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্মাণসামগ্রী খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হোলসিমও চলতি বছর ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ, অ্যাগ্রিগেটস ও রিসাইক্লিং খাতে একাধিক ছোট অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি প্রায় ২১৬ কোটি ডলারে জার্মান প্রতিষ্ঠান জেল্লা কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। ব্যাংকাররা বলছেন, মার্কিন শেয়ারবাজারে সম্ভাব্য তালিকাভুক্তির আগে ব্যবসা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই এ চুক্তিগুলো করেছে হোলসিম।
ওষুধ শিল্পেও চুক্তির প্রবণতা ছিল চোখে পড়ার মতো। রোশ ও নোভার্টিস নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের লক্ষ্যে বায়োটেক কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগ ও অধিগ্রহণ বাড়িয়েছে। ক্যান্সার ও ইমিউনোলজি খাত জোরদার করতে পোসেইডা থেরাপিউটিকস কিনেছে রোশ। অন্যদিকে নোভার্টিস ছোট আকারের অধিগ্রহণ ও লাইসেন্সিং চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানির গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে এপ্রিলে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও মে মাসের পর থেকে সুইজারল্যান্ডের এমঅ্যান্ডএ কার্যক্রমে আবার গতি ফেরে। দেশটির স্থিতিশীল অর্থনীতি, নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ ও সহজ অর্থায়নের সুযোগের কারণে বছরের বাকি সময়ও বড় চুক্তি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।










