রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান বিষাক্ত শৈবাল সারগাসাম। সমুদ্রের ওপর প্রায় ৫ হাজার ৫০০ মাইল জুড়ে গড়ে উঠেছে বিশাল আকৃতির বাদামি শৈবালের দ্বীপ। গবেষণায় দেখা গেছে, মৌসুম শেষ না হতেই এ বছর সারগাসামের ওজন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ মিলিয়ন টন। যা আগের বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি। খবর সিএনএন।

এই শৈবাল একসময় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য উপকারী ছিল। কিন্তু গত এক দশকে এটি পরিণত হয়েছে ভয়ংকর এক দূষণে। যা উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। যখন সারগাসাম অতিরিক্ত পরিমাণে তীরে এসে জমা হয়, তখন তা পচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়ানোর সঙ্গে পরিবেশে বিষাক্ত গ্যাস অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন সালফাইড ছাড়ে। যা শুধু মানুষ নয়, উপকূলের মাছ, কাঁকড়া, প্রবাল ও সামুদ্রিক ঘাসকেও ধ্বংস করছে।

এই দূষণ সবচেয়ে বেশি আঘাত হানছে ফ্লোরিডা, মেক্সিকো, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে। ফ্লোরিডার অনেক সমুদ্রসৈকত এবং জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা যেমন ক্যানকুন, বারবাডোস পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। পর্যটকদের আকর্ষণ হারানোয় স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সারগাসামের এই অস্বাভাবিক বিস্তারের মূল কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ও ফসফরাসযুক্ত কৃষিজ সার। এই সারগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও অ্যামাজন অববাহিকার কৃষিকাজ থেকে নদীপথে সাগরে পৌঁছে যাচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক খরার ফলে অ্যামাজনে মৃত উদ্ভিদের বিপুল পুষ্টি পদার্থ বর্ষায় একসঙ্গে ধুয়ে সাগরে গিয়ে পড়ছে। যা শৈবালের বৃদ্ধিকে আরো ত্বরান্বিত করছে।

সংকট সমাধানে সারগাসামের বৃদ্ধি হ্রাসের পাশাপাশি একে কাজে লাগানোর উপায় খুঁজছেন গবেষকরা। কেউ এটি দিয়ে জৈব জ্বালানি তৈরি করার চেষ্টা করছেন, কেউ বা পানি পরিশোধনের ছাঁকনি হিসেবে ব্যবহার করতে চান। এমনকি প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বায়োডিগ্রেডেবল পণ্য তৈরির চেষ্টাও চলছে। তবে এসব এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধুমাত্র দূষণ কমানো ও কৃষিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই সম্ভব।