ভেনিজুয়েলায় চলমান রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেনিজুয়েলার একটি তেলের ট্যাংকার জব্দ এবং বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য গোপনে দেশ ত্যাগ করার পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খবর রয়টার্স।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার উপকূলে ‘স্কিপার’ নামের একটি ট্যাংকার জব্দ করেছে। ২০১৯ সালের পর এটি প্রথমবারের মতো ভেনিজুয়েলার তেল জব্দের ঘটনা। জাহাজটি এখন হিউস্টনের দিকে যাচ্ছে, যেখানে ট্যাংকার থেকে তেল ছোট ছোট জাহাজে স্থানান্তর করা হবে। মার্কিন প্রশাসন আরো তেল জব্দের পরিকল্পনা করেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে, যাতে নিষিদ্ধ তেলের প্রবাহ রোধ করা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর স্ত্রী ও তার আত্মীয় এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত ছয়টি ট্যাংকারের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ২০১৩ সাল থেকে ভেনিজুয়েলার ক্ষমতায় থাকা নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র বৈধ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, দেশটির নির্বাচনের ফলাফল স্বচ্ছ নয় এবং দেশটিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মান কমেছে।

এদিকে দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে, যা মাদুরো সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। এ অভিযোগের কারণে চলতি বছর ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২০টির বেশি সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ অভিযানে প্রায় ৯০ জন নিহত হয়েছেন। যদিও অনেক রিপাবলিকান এ পদক্ষেপের পক্ষে ছিলেন, তবে ডেমোক্র্যাটরা এর আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং পুরো ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা চেয়েছেন।

অন্যদিকে ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো ১০ বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গোপনে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য অসলো সফর করেছেন।