দক্ষিণ কোরিয়ার সাধারণ মানুষের পাতে অতি পরিচিত কালো, মচমচে শুকনো সামুদ্রিক শৈবালটি স্থানীয়ভাবে ‘গিম’ নামে পরিচিত। স্ন্যাকসটি এখন বিশ্ববাজারে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মুখ দেখছে। তবে এই বিশ্বজয় কোরীয়দের জন্য সুখকর বার্তা আনেনি; বরং এর ক্রমাগত বাড়তে থাকা দাম এখন সাধারণ ভোক্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। খবর বিবিসি।
২০২৫ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার শুকনো সামুদ্রিক শৈবাল রফতানি প্রথমবারের মতো ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ড স্পর্শ করেছে। কোরিয়া মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত সর্বত্র এই খাবারের চাহিদা বেড়েই চলেছে। অনেকেই এখন গিমকে কোরিয়ার ইলেকট্রনিক্স খাতের সঙ্গে তুলনা করে ‘কালো সেমিকন্ডাক্টর’ নামেও ডাকছে।
তবে চাহিদার এই উল্লম্ফন সরাসরি প্রভাব ফেলেছে স্থানীয় বাজারে। ২০২৪ সালেও যে গিমের প্রতি শিটের দাম ছিল ১০০ উওন (দশমিক ০৬ ডলার), বর্তমানে তা বেড়ে ১৫০ থেকে ২০০ উওন ছাড়িয়েছে। প্রিমিয়াম মানের গিম এখন প্রতি শিট ৩৫০ উওন পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে গিমের এই আকস্মিক জনপ্রিয়তার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে কে-পপ এবং কে-ড্রামা। দর্শকরা পর্দায় তাদের প্রিয় তারকাদের এই খাবার খেতে দেখে নিজেরাও তা পরখ করতে আগ্রহী হচ্ছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেট চেইন ‘ট্রেডার জো’স’-এ কোরীয় গিমবাপ আসা মাত্রই সব ফুরিয়ে যাওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
সিউলের স্থানীয় বাসিন্দা কিম জা-ইলা জানান, তিনি সাধারণত কয়েক মাসের জন্য একসঙ্গে ৫০০ শিট গিম কিনে রাখেন। কিন্তু দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন তিনি কেনাকাটার অভ্যাস পরিবর্তনের কথা ভাবছেন। তার মতে, সাধারণ মানুষের জন্য এই অতিপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়া সত্যিই উদ্বেগের।
দাম স্থিতিশীল রাখতে দক্ষিণ কোরিয়ার সমুদ্র ও মৎস্য মন্ত্রণালয় বাজার তদারকি জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি ‘পুলমোন’-এর মতো খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণাগারে সারা বছর শৈবাল চাষের নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যাতে সরবরাহ বৃদ্ধি করে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হওয়া গর্বের হলেও, তার মূল্য এখন সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের টিফিন বক্সে টান দিচ্ছে।










