দুদিনের সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন রোববার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। অর্ধ দশকের মধ্যে প্রথম কোনো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর এটি। এ সফরকে বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষ দুই দেশের মধ্যকার শীতল সম্পর্ক উষ্ণ করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু উত্তেজনা কমানোর মতো কোনো ‘ব্রেক থ্রু’র সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মত মার্কিন কূটনীতিকদের। তবে এ সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার দ্বার খোলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তারা। খবর রয়টার্স।

দুই পরাশক্তির মধ্যকার হিমশীতল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ গলার কোনো আশা না থাকলেও তিন কারণে এ সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তা হচ্ছে উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে খোলাখুলি আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো, বাণিজ্য সংঘাত কমিয়ে আনতে পারস্পরিক সমঝোতার সম্ভাব্য খাতগুলোকে চিহ্নিত করা ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যুদ্ধ এড়িয়ে চলা।

অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে শীর্ষে ওঠার দৌড়ে রয়েছে চীন। ফলে দেশ দুটির মধ্যে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বাণিজ্যযুদ্ধ তিক্ত রূপ নিয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ৪ জুন সিঙ্গাপুরে এশিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলনে শাংরি লা সংলাপে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শাংফু বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে গোটা পৃথিবীতে অসহনীয় বিপর্যয় নেমে আসবে। তাই সংঘাত এড়াতে তারা আলোচনা জারি রাখতে চায়।’

২০২১ সালে জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন দায়িত্ব নেয়ার পর চীন সফরকারী সর্বোচ্চ পদস্থ মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা হচ্ছেন ব্লিংকেন। গত ফেব্রুয়ারিতে এ সফর হওয়ার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে চীনের গোয়েন্দা বেলুন উড়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কের অবনয়ন ঘটে। ফলে সে সময় ব্লিংকেনের বেইজিং সফর স্থগিত হয়ে যায়। 

চীনে প্রথা অনুযায়ী বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউজের ভেতরে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের গেস্ট হাউজের দরজায় এগিয়ে এসে স্বাগত জানান চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং। হাঁটতে হাঁটতে তারা সামান্য আলাপচারিতাও করেছেন। কিন ইংরেজিতে ওয়াশিংটন থেকে ব্লিংকেনের দীর্ঘ যাত্রা সম্পর্কে জানতে চান।

গত নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর সংগঠন জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে এসে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি আলোচনায় বসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ওই আলোচনায় তাইওয়ান ও উত্তর কোরিয়া বিষয়ে দুই প্রেসিডেন্ট কথা বলেন এবং শিগগিরই আরো দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সফরসূচি অনুযায়ী আজ সোমবার পর্যন্ত ব্লিংকেন চীনে অবস্থান করবেন। দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত প্রতিযোগিতা যাতে সংঘাতে পরিণত না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য স্থায়ী যোগাযোগ চ্যানেল স্থাপন করার লক্ষ্যে ব্লিংকেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং ও শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

আশা করা হচ্ছে, ব্লিংকেনের এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে পারে। আগামী মাসে আরো আলোচনার জন্য মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন ও বাণিজ্যমন্ত্রী জিনা রাইমন্ডোও চীন সফরে আসার কথা রয়েছে। এতে চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বহুপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে শি ও বাইডেনের মধ্যে বৈঠকের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিতে পারে।