২০১৪ সালে কলমার আগ্লোমেরাসিওঁর সভাপতি (মেয়রের সমতূল্য) পদে নির্বাচনে ‘একটি পরিবার; একটি মুরগি’ স্লোগান নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন গিলবার্ট মেয়ার। এর মাধ্যমে তিনি বাসিন্দাদের মুরগি পালনে উৎসাহিত করতে চেয়েছিলেন। পরের বছর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয় এবং দুইটি স্থানীয় খামারের সহায়তায় বাসিন্দাদের বিনামূল্যে মুরগি দেয়া শুরু হয়। চারটি পৌরসভার ২০০টির বেশি পরিবার এই প্রকল্পে অংশ নেয় এবং প্রতিটি পরিবারকে দুটি করে স্থানীয় আলসেস প্রজাতির মুরগি দেয়া হয়। তবে শর্ত থাকে— তারা মুরগিগুলো পালন করবে এবং যে কোনো সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ তাদের মুরগির খোঁজ নিতে পারে। তবে মুরগির জন্য দেয়া হয়নি কোনো খোঁয়ার। এটি বাসিন্দাদেরই তৈরি করতে বা কিনতে হয়েছে। এই প্রকল্পটি সফল হয় এবং এখনো চলছে।
কলমারের বর্তমান আগ্লোমেরাসিওঁর সভাপতি এরিক স্ট্রাউম্যান জানান, ২০২২ সাল থেকে কলমারের ২০টি পৌরসভা এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাসিন্দাদের ৫ হাজার ২৮২টি মুরগি বিতরণ করা হয়েছে এবং ২০২৫ সালের জুনে নতুন মুরগি বিতরণের জন্য আবেদন নেয়া হচ্ছে।
এতে শুধু বাসিন্দারা বিনামূল্যে ডিম পেয়েছেন তাই নয়, বরং রান্নার উচ্ছিষ্ট খাবার মুরগিদের খাওয়ানোর ফলে খাদ্য বর্জ্যও কমানো সম্ভব হয়েছে। স্ট্রাউম্যান বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকে আমরা প্রায় ২৭৩ টন জৈব বর্জ্য কমাতে পেরেছি। কারণ, প্রতিটি মুরগি দিনে গড়ে ১৫০ গ্রাম জৈব বর্জ্য খায়।’
খাদ্য অপচয় ল্যান্ডফিল বা আবর্জনার স্তূপে সবচেয়ে বেশি মিথেন গ্যাস নির্গমনের কারণ হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বর্জ্যভূমিতে নির্গত মোট মিথেনের ৫৮ শতাংশ আসে খাদ্য অপচয় থেকে। যদিও মিথেন কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে বায়ুমণ্ডলে কম স্থায়ী হয়, তবুও এটি ২০ বছরের ব্যবধানে কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে ৮০ গুণ বেশি গরম রাখার ক্ষমতা রাখে।
বিশ্বব্যাপী মানুষের জন্য উৎপাদিত খাবারের এক তৃতীয়াংশই অপচয় হয়, যার পরিমাণ বছরে ১০৩ কোটি টন। খাদ্য অপচয় প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ৮ থেকে ১০ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য দায়ী, যা গোটা বিমান চলাচল খাতের নির্গমনের প্রায় পাঁচ গুণ।
কলমার একমাত্র শহর নয় যেখানে বিনামূল্যে মুরগি দেয়া হয়েছে। এর আগে ২০১২ সালে ফ্রান্সের ছোট শহর পাঁসেতে প্রতি পরিবারকে দুটি করে মুরগি দেয়া হয়। প্রথমে এটি মজা হিসেবে শুরু হলেও পরে এটি সফল প্রকল্পে পরিণত হয়। বেলজিয়ামের মুসক্রোঁ ও আন্টওয়ার্প শহর এবং লিমবুর্গ প্রদেশেও বিনামূল্যে মুরগি বিতরণ করা হয়েছে। তবে সেখানে বাসিন্দাদের কমপক্ষে দুই বছর মুরগি না খাওয়ার চুক্তি করতে হয়েছে।
লিমবুর্গে এক বছরেই আড়াই হাজারের বেশি পরিবার মুরগি নিয়েছে, আর মুসক্রোঁতে প্রথম রাউন্ড সফল হওয়ার পর দ্বিতীয় রাউন্ডে ৫০ জোড়া মুরগি বিতরণ করা হয়। বাসিন্দাদের অবশ্যই প্রমাণ করতে হয়েছে যে তাদের কাছে মুরগি পালনের জন্য যথেষ্ট জায়গা রয়েছে এবং মুরগি পালনের মৌলিক নির্দেশনাও দেয়া হয় তাদেরকে।










