ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গত শনিবার রাতে ইউক্রেনের রাজধানীতে রুশ বিমান হামলার কথা জানিয়েছে ইউক্রেন। এ সময় এক ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। 

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কিয়েভের দিকে ধেয়ে আসা কমপক্ষে ২০টি ড্রোনকে ভূপাতিত করেছে ইউক্রেনীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো বলেছেন, রাশিয়ার ছোড়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি পেট্রল স্টেশনের কাছে পড়লে ৪১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়। এ সময় ৩৫ বছর বয়সী একজন নারীও আহত হয়েছেন।

ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী বলছে, সব মিলিয়ে রাশিয়া ৫৪টি কামিকাজে ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে এবং ৫২টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু রাজধানী কিয়েভেই ৪০টি রুশ ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

প্রতি বছর মে মাসের শেষ সপ্তাহের রোববারে পালিত হয় কিয়েভ দিবস। দেড় হাজার বছর আগে কিয়েভ শহরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সে হিসাবে এবার প্রতিষ্ঠার ১ হাজার ৫৪১ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতি নেয় শহর কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, প্রস্তুতিকালে অনুষ্ঠানের একদিন আগে অর্থাৎ শনিবার মধ্যরাতের পর পরই বিমান হামলা শুরু হয়। ওই সময় সতর্ক অ্যালার্ম বেজে উঠলেও অনেক বাসিন্দা তাদের বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর পক্ষে স্লোগান দেন। কয়েকটি অঞ্চলে বিভক্ত ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় শহর কিয়েভের জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। শহরের প্রতিষ্ঠা দিবসে সাধারণত মেলা, লাইভ কনসার্ট ও বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। 

প্রায় ১৫ মাস আগে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর সম্প্রতি কিয়েভকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। চলতি মাসেই শহরটিতে এ নিয়ে ১০ বারের মতো হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। প্রতিবেদন বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সর্বশেষ এ আক্রমণ ছিল কিয়েভের ওপর সবচেয়ে বড় হামলা।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া এখন ইউক্রেনের রাজধানীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে কিয়েভের মেয়র ক্লিসকো তার শহরের বাসিন্দাদের আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানের অনুরোধ জানিয়েছেন। কিয়েভের ওপর আরো সম্ভাব্য হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামনে আরো কঠিন রাত অপেক্ষা করছে।’