নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভূকম্পন ও ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে। পানির তীব্র স্রোতে বহু ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ভেসে গেছে। একই সঙ্গে অন্তত ২৮ জন পুলিশ সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। খবর বিবিসি।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে জানান, এখন পর্যন্ত ১০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় এসব মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের তথ্যমতে, বন্যায় রাসুয়ায় একজন, নুয়াকোটে ১১ জন, ধাদিংয়ে ১৮ জন, চিতওয়ানে ৩৩ জন, গোরখায় ১৯ জন, তানাহুনে সাতজন এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভিডিও চিত্রে সীমান্তে বেশ কয়েকজন মানুষকে ভেসে যেতে দেখা গেছে। উভয় দেশের কর্তৃপক্ষই আরো ব্যাপক হতাহত ও বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা করছে। আক্রান্ত তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন নেপালের এ এলাকাটিতে হঠাৎ ঢল নেমে আসার পর বিদেশী পর্যটকসহ অন্তত ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

নেপাল পর্যটন বোর্ডের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ভারতীয়, আমেরিকান ও ব্রিটিশ নাগরিকসহ অন্তত ৩৪১ জন বিদেশী নিখোঁজ রয়েছেন। ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী ২৯১ জন বিদেশী ও ১০০ জন নেপালিসহ মোট ৩৯১ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের অবস্থান ও নিরাপত্তা যাচাইয়ে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

নুওয়াকোট জেলার শিক্ষক সুমন চালিসে (৩৪) বন্যার পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমি নিজ চোখে পানির স্রোতে আট-নয়টি ট্রাকসহ ঘরবাড়ি ও মানুষকে ভেসে যেতে দেখেছি। দৃশ্যটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ছিল, এর আগে এমন ভয়াবহ রূপ কখনও দেখিনি।’

নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবেলাকারী দল পাঠিয়েছে নেপালি সেনাবাহিনী।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বিপর্যয়ের কারণে নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির জলবিদ্যুৎ ও সৌর কেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে। কাঠমান্ডুভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট’-এর ভূ-তথ্য বিশ্লেষক সার্থক শ্রেষ্ঠা জানান, ধারণা করা হচ্ছে ভূমিকম্পের কারণে নেপাল অংশেই পাথর ও বরফের ধস নেমে ‘লেন্দে’ (লেন্দে খোলা) নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল, যা পরবর্তীতে এ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।