যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে এগিয়ে আসলে সমঝোতার মাধ্যমে পারমাণবিক চুক্তিতে ইরান আগ্রহী বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন দেশটির এক মন্ত্রী। তবে দুই পক্ষের আলোচনার অগ্রগতি থমকে থাকার জন্য ইরানকেই দায়ী করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি করতে আগ্রহী কিন্তু ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা বেশ কঠিন। অন্যদিকে বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভাঞ্চি বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিক হয় তাহলে এই চুক্তির অগ্রগতি হবে।

এদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার জন্য কোনো চুক্তি না হলে ইরানে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর প্রেক্ষিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক শক্তির উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার পর মঙ্গলবার জেনেভাতে দ্বিতীয় দফা আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। রাভাঞ্চি ও ট্রাম্প এ আলোচনাকে ইতিবাচক বলেছেন।

তবে রাভাঞ্চি এর পরিণতি নিয়ে সন্দিহান। তিনি বলেন, সমঝোতার প্রমাণ হিসেবে তেহরান ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনার জন্যে আগ্রহী হলে ইরান তাদের অন্যান্য কর্মসূচি ও বিষয় নিয়েও আলোচনা করতে প্রস্তুত।

২০১৫ সালের চুক্তির মতো ইরান তাদের ৪০০ কেজির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশ থেকে বাইরে পাঠাতে রাজি কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আলোচনার সময় কখন কী হয় তা আগে থেকে বলা মুশকিল’। ওই চুক্তিতে রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে তুলনামূলক কম সমৃদ্ধ ১১ হাজার কেজির ইউরেনিয়াম নিয়েছিল। এবারও তারা একই ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবের কথা পশ্চিমা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, তেহরান তার পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবে। ইরানের প্রধান দাবিগুলোর একটি হলো আলোচনা শুধুই পারমাণবিক কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

রাভাঞ্চি বলেন, এটা নিশ্চিত হলেই আলোচনার অগ্রগতি হবে। ওয়াশিংটনের শূন্য সমৃদ্ধকরণ দাবি মূলত যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রেই বাধা তৈরি করে। তার ধারণা, ওয়াশিংটনের এ দাবি এখন আলোচনার বাইরে। তবে ট্রাম্প শুক্রবারেই বলেছেন ভিন্ন কথা।

আবার তেহরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করবে না বলে আগেই জানিয়েছে। ইসরায়েল চায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যেকোনো চুক্তিতে যেন ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়টি থাকে।

এসবের পাশাপাশি মার্কো রুবিওসহ অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মদদ দেয়া থেকেও তেহরানকে বিরত থাকতে বলছে ।

এর প্রতিক্রিয়ায় রাভানচি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময় এ ক্ষেপণাস্ত্রই ইরানকে রক্ষা করেছে। এ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ত্যাগ করার কোনো মানেই হয় না। তিনি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ সমাধানের আগ্রহ দেখালেও ট্রাম্প আবার ইরানে শাসক পরিবর্তনকে সমাধান হিসেবে দেখছেন, যা সাংঘর্ষিক।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, নতুনভাবে যুদ্ধ হলে অস্থিতিশীলতা বাড়বে, মূলত এটি সবার জন্যই খারাপ, সবাই ভুগবে। আগ্রাসনকারীকেও যথাযথ জবাব দেয়ার বিষয়েও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।